শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে বাড়ির দরজা কেটে দুর্ধর্ষ চুরি আগের মতো সড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে না : শাহজাহান খান লালমনিরহাটে ধর্ষণের চেষ্টায় জাসদ নেতা হাসমতের বিরুদ্ধে মামলা লালমনিরহাটে বসতভিটা ও চাষাবাদের ৩৩ শতক জমি রক্ষায় নিঃস্ব ফৈমুদ্দিন শুধুই কাঁদছেন! লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে অমানসিক নির্যাতনে অভিযোগ মই দিয়ে ৫ কোটি টাকায় সেতুতে উঠছেন স্থানীয়রা! ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

৬০ বছর ধরে তৈলের ঘানি টেনে সংসার চালাচ্ছেন মজাহার আলী

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১২৮ বার দেখা হয়েছে
৬০ বছর ধরে তৈলের ঘানি টেনছে মজাহার আলী।

স্টাফ রিপোর্টার ।। লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আলোকদিঘি এলাকার বাসিন্দা।সংসারের ঘানি টানতে জীবন যুদ্ধে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তৈলের ঘানি টানছেন মজাহার (৮৫)। আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকায় বৃদ্ধ বয়সেও তৈলের ঘানি টানতে হচ্ছে তার।

জানা গেছে, ৫ ছেলে-মেয়েসহ ৭সদস্য’র সংসার মজাহারের। পরিবারটির ভরণ-পোষণ করতেই তার অর্জিত টাকা শেষ হয়। টাকা জমানোর কোন সুযোগ হয়না তার । ছেলে আমিনুল ও আজিজুল, ২জনই বিয়ের কিছুদিন পরেই আলাদা হয়েছে। এতে তাঁর সংসার চালানো আরও কষ্টকর হয়ে পরেছে। মেয়ে মজিদা বেগম, মোর্শেদা বেগম ও কুলছুমকে বিয়ে দেওয়ার সময় যে পরিমাণ যৌতুকের টাকা গুনতে হয়েছিল, তাতে তিনি একবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

বর্তমানে কিভাবে দিন যাপন করছেন তা জানতে চাইলে বলেন, বড় ছেলের তৈরী করা ঘরের একটি কক্ষ তাঁকে থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে। মজাহার আলী ও তাঁর স্ত্রীসহ কোন মতে সেখানে নিদ্রাযাপন করেন। তৈলের ঘানি টানার এ পেশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৬০বছর হয় এই কাজ করে আসছি, ১০বছর বয়সে বাবার সাথে একাজ শুরু করেছি। বাকী ৫০বছর তিনি নিজেই এ কাজ করে আসছেন বলে জানান। আশপাশের গ্রাম থেকে বাকীতে সরিষা কিনে উক্ত সরিষা থেকে তৈল তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন।

মজাহার আলীর ঘানি টেনে তৈরি সরিষার তৈলের দাম জানতে চাইলে জানান, ১কেজি সরিষার তৈল এবং খৈয়ল বিক্রি করে ২শত থেকে ২শত ৫০টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে এ দর সরিষার আমদানি বেশি হলে অনেকটাই কমে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে ছনের চালায় ঘরের স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি তৈলের ঘানিটি। গ্রাম্য ভাষায় যেটিকে বলা হয় তৈলগাছ। বর্তমানে সেখানে স্ত্রীর সহযোগিতায়, গরু দ্বারা ঘানি টানছেন মজাহার । উদ্দেশ্য সরিষা হতে তৈল তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা। সহায় সম্বল বলতে পৈত্রিকভাবে পাওয়া বাড়ি ভিটার ৫শতক জমি যেখানে টিনের তৈরী ১টি ঘর এবং তৈল গাছটি নিয়েই সংসার।

মজাহার আলীর বর্তমানে যে গরুটি রয়েছে তা প্রায় কর্ম অক্ষ্যম। নতুন একটি গরু কিনবে সে টাকাও জোটাতে পারছেন না। কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বেই আমরা ধোপা, নাপিত, কুলি ও তেলী এ রকম শ্রেণির পেশার তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরের দিয়েছি কিন্তু মজাহার আলীর নাম আছে কিনা সঠিকভাবে বলতে পারেননি তিনি।

কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, ইতিপূর্বে এ রকম শ্রেণির পেশার যারা আছেন তাদের তালিকা ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে । কিন্তু তার নাম আছে কি না সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102