শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

২৪ ঘন্টা বদলে ৮ ঘন্টা ডিউটির দাবীতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দপ্তরীরা

স্টাফ রিপোর্টার ।।
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২
  • ১২৩ বার দেখা হয়েছে
লালমনিরহাট : জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: নতুন বাংলার সংবাদ

“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আউটসোসিং শিক্ষা নীতিমালায় লালমনিরহাটের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রাপ্ত দপ্তরী কাম প্রহরীদের সরকারি ছুটি প্রাপ্যতার কথা থাকলেও তারা কোন ছুটি পাচ্ছেন না।

ফলে জেলায় কর্মরত ২৪০ দপ্তরী কাম প্রহরীরা ছুটিহীন ২৪ ঘন্টাই ডিউটি করছেন। নিরুপায় হয়ে সদর উপজেলা দপ্তরী কাম প্রহরী সমিতি পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্ট রায় বাস্তবায়নের লক্ষে ২৪ ঘন্টা বদলে ৮ ঘন্টা ডিউটির দাবীতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে দপ্তরী কাম প্রহরীরা। ফলে ৭ দফা দাবীতে মানববন্ধন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

লালমনিরহাট : জেলা প্রশাসক আবু জাফক-কে দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: নতুন বাংলার সংবাদ


জানা গেছে, ২০০৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আউটসোর্সিং নীতিমালা এবং ২০১২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আউটসোসিং নীতিমালায় নিয়োগ প্রাপ্ত সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাটে ২৪০ জনকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরমধ্য জেলা সদর উপজেলা ৭২ জন, আদিতমারী ২৫ জন, কালীগঞ্জে ৫৭ জন, হাতীবান্ধায় ৩৪ জন ও পাটগ্রাম উপজেলায় ৫২ জন। এ সব দপ্তরী কাম প্রহরীরা নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ২৪ ঘন্টাই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা এবং নিষ্টার সাথে পালন করে আসছে।

অথচ ২০১২ সালের আউটসোসিং নীতিমালায় অনুচ্ছেদ ১১/১ মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত দপ্তরী কাম প্রহরীদের সরকারি ছুটি প্রাপ্যতার কথাও থাকলেও তারা কোন ছুটি পান না। সরকারীসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও দপ্তরী কাম প্রহরীর কোন বন্ধ নেই। অতিরিক্ত কর্মভারে ক্লান্ত দপ্তরী কাম প্রহরী সংগঠনের নেতারা কর্মঘন্টা ও ছুটি প্রাপ্তির প্রাণের দাবী তুলে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন।

বেতন বৈষম্য নিরসনে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটেও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছবিঃ নতুন বাংলার সংবাদ


যার রীট পিটিশন নং- ১৭০৮৩-২০১৭, তাং ১৪/০৩/১৯ইং। উক্ত রীট পিটিশনে মহামান্য হাইকোর্ট দপ্তরী কাম প্রহরীদের দায়িত্ব ২৪ ঘন্টা নয়, শুধুমাত্র বিদ্যালয় টাইম (খোলা ও বন্ধ) পর্যন্ত বলবৎ রাখাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। যা ইতিমধ্যেই কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুধুমাত্র মহামান্য হাইকোর্টের রায় কার্যকরের বিষয়টি লালমনিরহাটে কেউ আমলে নিচ্ছেন না।

মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে অমান্য করে শিক্ষাকর্তারা মাঠ পর্যায়ে দিন/রাত শ্রম দিতে বাধ্য করাচ্ছেন দপ্তরী কাম প্রহরীদের। উক্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকরে সদর উপজেলা দপ্তরী কাম প্রহরী সমিতি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্মারকলিপিসহ দফায় দফায় আবেদন করেও দপ্তরী কাম প্রহরীদের ভাগ্যয় মেলেনি সুফল।

লালমনিরহাট : জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: নতুন বাংলার সংবাদ


ফলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবী আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে (১ অক্টোবর) লালমনিরহাটের মিশন মোড় মিশনমোড় চত্বরে এ মানববন্ধন করেন। ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের পে-কমিশন গঠনপূর্বক বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৭ দফা দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেলের, ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরি জীবিদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৭ দফা দাবি সমূহ।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িরদীঘি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী ও উপজেলা দপ্তরী কাম প্রহরী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোন্নাফ জয় বলেন, আমরা ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও আমারও মানুষ। আমাদের দুঃখের কথা কেউ শুনেন না। অথচ বিদ্যালয়ের সব কাজ আমাদের দিয়ে করানো হয়। এক কথায় আমরা ২৪ ঘন্টাই শ্রমিক। একজন শ্রমজীবী মানুষ ৮ ঘন্টার বেশি সময় কোন কাজেই শ্রম দেন না।

আমাদের কর্মঘন্টা ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্ট শুধুমাত্র বিদ্যালয় টাইম পর্যন্ত দপ্তরী কাম প্রহরী দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা আমাদের কর্মঘন্টা বিষয় দফায় দফায় আবেদন করেও কোন সুফল পাচ্ছি না। মাস শেষে বেতন পেতেও পোহাতে হয় নানান ভোগান্তি।

লালমনিরহাট : সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: নতুন বাংলার সংবাদ


মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নিজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী স্বপন কুমার রায় ও একই ইউনিয়নের মৃত্তিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মাহাবুবর রহমান বলেন একই কথা। আমাদের কথা কেউ শুনেন না। আমাদের কর্মঘন্টা মহামান্য হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। এটাই আমাদের প্রাণের দাবী ও অধিকার। দফায় দফায় আবেদন করেও আমরা কোন সুফল পাননি। শিক্ষকরা মাস শেষে ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পান। আর আমরা দপ্তরী কাম প্রহরীরা জানুয়ারি মাসের বেতন ফেব্রুয়ারির ১৫/২০ তারিখ ছাড়া পাই না। আবার কোন কোন মাসে পাই না।

লালমনিরহাট : সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি প্রদান। ছবি: নতুন বাংলার সংবাদ


সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দপ্তরী কাম প্রহরীদের স্মারকলিপি পেয়েছি। তা বাস্তবায়নের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট সুপারিশসহ পরর্বতী নির্দেশনার জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আমি তাদের ছুটি কার্যকর করতে পারছি না। কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি দপ্তরী কাম প্রহরীদের কর্মঘন্টা বেঁধে নির্দেশনা দেন তাহলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102