মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

১৭৮ বছরের নাট বল্টুর তিস্তা রেল সেতু : মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৮

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ মে, ২০২১
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের সর্ববৃহৎ আয়তনের একটি রেল সেতু। সেতুটি তিস্তা রেল সেতু নামে পরিচিত। নাট-বল্টু দিয়ে নির্মিত তিস্তা রেল সেতুটির মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৮ বছর পেরিয়ে গেলেও দাপটের সাথে ভারবহন করে চলছে। রেল সেতুতে ট্রেন উঠলেই পুরো সেতু কেঁপে উঠলেও আজও লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-রংপুরসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ অক্ষুন্ন রেখেছে। তবে এখনো আগের মতো সক্ষম সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন ১৮টি ট্রেন চলাচল করছেন বলে খোদ রেলওয়ে বিভাগ দাবী করেছেন।

জানা গেছে, ১৮৩৪ সালে বৃটিশ সরকারের আমলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা মৌজায় তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা রেল সেতু। যার ২ হাজার ১১০ ফুট (৬৪৩ মিটার) দীর্ঘ তৎকালীন বৃটিশ সরকারের প্রতিষ্ঠান নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে তিস্তা রেল সেতুটির নির্মাণ কাজ করে। ফিসপ্লেট- নাট-বল্টু দিয়ে নির্মিত তিস্তা রেল সেতুটির স্থায়ীত্বকাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। বর্তমান তিস্তা রেল সেতুর বয়স ১৭৮ বছর। স্থায়ীত্বকালের চেয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৮ বছর বেশি। শুরুর দিকে তিস্তা রেল সেতু কেবল লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-রংপুরসহ সারাদেশের সাথে রেল যোগাযোগের জন্যই ব্যবহৃত হতো।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বোমা মেরে সেতুটির একটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করেন। তৎকালীন রেল কর্তৃপক্ষ সেতুটি সংস্কার করার পর ১৯৭২ সালে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়। তার সাথে যুক্ত হয় ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে তিস্তা রেল সেতুতে মিটার গেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। সেই সাথে ছোট-বড় বাস ও ট্রাকসহ সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়। ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছিলেন স্থানীয়রা।

তার উপর আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৮ বছর হলেও জোড়াতালি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। এমন আশঙ্কা থেকে ২০০৬ সালে আ’লীগ সরকার তিস্তা রেল সেতুর পূর্ব পাশে নতুন করে তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যার কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে, তখন থেকে বাস ও ট্রাকসহ অন্যন্যা যানবাহন তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে চলাচল করছে। তারপর স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নেয় রেল সেতুটি। সেই থেকে রেল সেতুটি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের রেল সংযোগকারী হিসেবে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে ১৮টি ট্রেন।

বর্তমান সেই তিস্তা রেল সেতুর কিছু কাঠের স্লিপার পচে নষ্ট হয়ে গেছে। চুরি হয়ে গেছে ক্লিপ, মরিচা ধরেছে সেতুর দুই সারির জোড়ায় ব্যবহৃত ফিসপ্লেটের নাট-বল্টুতে। তবে নির্মাণের ১৭৮ বছর পরেও সেতুটি ততোটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ।

ওই এলাকার কলেজ ছাত্রী নুর নিশাত জাহান বলেন, ট্রেনে যোগাযোগের উত্তর অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা তিস্তা রেল সেতু। সেটিও বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। তিস্তা রেল সেতুটি যেকোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে।

তিস্তা পাড়ের আলিমুদ্দিন বলেন, প্রতিদিন অনেক ট্রেন চলাচল করে এই সেতু দিয়ে। অথচ এটির কোন গুরুত্ব নেই প্রশাসনের। জন্মের আগের সেতুটি কি আর এভাবেই থাকবে।

অবশ্য রেলমন্ত্রী নজরুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি সময়ে বলেছেন, ঝুকিপূর্ন লালমনিরহাট রেল সেতুর পাশে আরও একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেতুটির উত্তর পাশ্বে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম ও দক্ষিন পাশে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা অবস্থিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জানান, তিস্তা রেল সেতুটি মেয়াদ শেষ হলেও এটি আরো একশত বছর চালানো সম্ভব। এটি কখনো ঝুকিপূর্ন নয়। প্রতিবছরে সেতুটির সংস্কার কাজ করা হয়। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, তিস্তা রেল সেতুর মেয়াদ শেষ হলেও ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সেতুর কিছু স্থানের নাট-বল্টু ও প্লিপার চুরি হয়ে যাচ্ছে। এটি ট্রেন চলাচলে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিস্তা রেলসেতু রক্ষণাবেক্ষণে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102