মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

সুগার মিলের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভাংচুর ও লুটপাট

মোঃ রাশেদুল ইসলাম, পঞ্চগড় ।।
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮৯ বার দেখা হয়েছে
বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।।

পঞ্চগড় সুগার মিল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টায় দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে । জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা ধীন ৪নং ইউনিয়ন শালবাহান বাজার সংশ্লিষ্ট আখ ক্রয় কেন্দ্রের পাশে বুধবার (৭-সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক ১১টার সময় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে । এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন হতাহতের দাবি করলেও এ ঘটনায় মোঃ বাবুল হোসেন (৪৪) একজন গুরুতর আহত হয়েছেন । তার মাথার পেছনে স্বজোরে আঘাত করার ফলে ফেটে যায় ।

যে কারণে তার মাথার পেছনের অংশে ৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে । এ ঘটনায় ঐদিনই রাত ৮.২৫ মিনিটে চিনির মিল এর পক্ষে শ্যামল কুমার বর্মন (৩৯) জুনিয়র অফিসার পঞ্চগড় চিনির কল বাদী হয়ে, মোঃ মহিউদ্দিন এর তিন ছেলে, মোঃ বাবুল হোসেন (৪৫), মোঃ মফিজুল ইসলাম (৫৫),মোঃ মজাহারুল ইসলাম (৫০) এর নাম উল্লখ করে এবং ৫/৬ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে এজাহার আনায়ন করেন। এবং পুলিশ তা গ্রহণ করে ।

আবার এ ঘটনায় মোছাঃ জাহেদা খাতুন বাদী হয়ে পঞ্চগড় সুগার মিলের ভারপ্রাপ্ত মহা ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ ইউসুফ আলী সহ ২১জনের নাম উল্লখ করে আরো ২০/৩০ অজ্ঞাতনা’কে বিবাদী করে ১টি, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (দোকান ভারাটিয়া) বাদী হয়ে মহাব্যবস্থাপক পঞ্চগড় সুগার মিল দশ জনের নাম উল্লেখ করে এবং শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি’কে বিবাদী করে ১টি, একই ভাবে মোঃ আব্দুল মালেক (ভাড়াটিয়া) বাদী হয়ে দশ জনের নাম উল্লখ করে এবং অজ্ঞাতনামা শতাধিক করে ১টি, মোঃ আবু তালেব (ভাড়াটিয়া) দশ জনের নাম উল্লখ করে এবং অজ্ঞাতনামা শতাধিক করে ১টি লিখিত অভিযোগ জমা দেন তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে ।

মোছাঃ জাহেদা খাতুন মামলার এজাহারে উল্লখ করেন, জেলা পঞ্চগড় থানা তেঁতুলিয়া মৌজা শালবাহান জেএল নং -১৮ খতিয়ান নং ০১ হাল দাগ নং এস এ ৪৭৬ জমির পরিমাণ ১.৯৬ একর জমির মধ্যে পশ্চিম দক্ষিনাংশের পূর্ব পর্যন্ত ৫১ শতক জমি যার দলিল নং -৮২৪২/৬৭ এবং ২০/০৬/১৯৬৭ সালে তার নামে রেজিস্ট্রি হয় ।তার পর থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন তিনি । সেখানে ১০ টি আধা কাঁচা, পাকা দোকান ঘর তৈরি করে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছেন তিনি ।

সেখানে ভাড়াটিয়ারা কীটনাশকের দোকান, টিভি সার্ভিসিং এর দোকান, ফার্নিচারের দোকান, জ্বালানি তেলের দোকান, বাইসাইকেলে মেকানিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রয় এর দোকান করে আসছে । এমতাবস্থায় ঘটনার দিন সুগার মিল কর্তৃপক্ষের অতর্কিত হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনটি দোকান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তাদের সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪/১৫ লক্ষ টাকা । বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে , মোঃ মহিউদ্দিন এর পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০/৮৫ সালে মোঃ মহিউদ্দিন ৪৭৫ দাগে ৫৫ শতক জমি শালবাহান হাট আখ ক্রয় কেন্দ্র করার জন্য পঞ্চগড় সুগার মিলের নামে হস্তান্তর করেন ।

পরবর্তীতে লেখার ভুলে ৪৭৫ দাগের পরিবর্তে ৪৭৬ নং দাগ লেখা হয়। পরবর্তীতে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে মোঃ মহিউদ্দিন, তৎকালিন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও তার অফিসের ৩ জনের বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় মোঃ মহিউদ্দিন ও তৎকালিন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার সাড়ে সাত বছর করে জেল হয় । জেল হাজতে থাকাকালীন সময়ে ভূমি কর্মকর্তার হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হয় । এবং মহিউদ্দিন এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আপিল শুনানির মধ্য দিয়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান । মায়ের সম্পদ হওয়ায় মোছাঃ জাহেদা বেগম এর ছেলেরা সব দেখাশোনা করে ।

বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড় সুগার মিল লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক খুুুুরশীদ জাহান মাফরুহা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুগার মিল কর্তৃপক্ষ মহিউদ্দিন এর কছে ৪৭৬ দাগে জমি ক্রয় করে। পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা জোর পূর্বক জমি দখল করে দোকান ঘর তৈরি করে । আমরা প্রাচীর নির্মাণের জন্য গেলে তারা বাধা প্রদান করে । দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান তিনি । কিন্তু বিষয় হল যদি সুগার মিল কর্তৃপক্ষ ৪৭৬ দাগে জমি ক্রয় করে থাকে তবে মোঃ মহিউদ্দিন, তৎকালিন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও তার তিন জন অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ৪২০ ধারার চিটিং মামলা দেওয়া হল কেন ?

সংশ্লিষ্ট ভাড়াটে দোকান ব্যবসায়ীরা জানান, আগে থেকে কোন নোটিশ না করে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সুুষ্ঠু তদন্ত সাপক্ষেে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দ্বাবী জানান তারা । বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে সুগার মিল কর্তৃপক্ষের হামলা ও দোকান ভাংচুরের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায় ।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু সায়েম মিয়া জানন , মোছাঃ জাহেদা বেগম, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (দোকান ভাড়াটিয়া) , মোঃ আব্দুল মালেক (ভাড়াটিয়া) ও মোঃ আবু তালেব(ভাড়াটিয়া) এর অভিযোগের পূর্ব তদন্ত চলমান রয়েছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102