রবিবার, ২২ মে ২০২২, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ শ্বশুর বাড়ির পাশে জামাতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সরকারী রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় বরখাস্তে আগে জবাব দিল লালমনিরহাটের দলিল লেখক রমজান আলী

আশরাফুল হক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৭ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাট সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রারীতে দলিল অবমুল্যায়নে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ বেশ পুরানো। কিন্তু এবার অবমুল্যায়ন দলিল রেজিষ্ট্রারী করেও পুনরায় রাজস্ব ফাঁকির টাকা জমা করে ফেঁসে গেল দলিল লেখক মো. রমজান আলী।

উক্ত দলিল লেখককে এক আদেশে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন লালমনিরহাট সদর সাব-রেজিস্ট্রার আঃ রশিদ। তবে নাটকীয় রাজস্ব ফাঁকি ঘটনা বরখাস্তকৃত দলিল লেখক বরখাস্তের আগেই জবাব দিয়েছেন।

জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা দালালটারী এলাকার মৃত: ইমামুদ্দিনের পুত্র মো. হাসেম আলীর মোস্তফি মৌজার ১৭ শতক ৩১ পয়েন্ট জমি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ভুড়িধোঁয়া গ্রামের মৃত: হানিফ আলীর পুত্র মো. জিয়ারুল রহমান ও মো. এন্তাজুর হক এর নিকট সাব-কবলা মুলে বিক্রি করেন।

যার চুড়ান্ত খতিয়ান নং ১১১৮, জেএল নং ৬৮, তৌজি নং ২২০, দাগ নং ৮৯৫ জমির পরিমাণ ১৭ শতক ৩১ পয়েন্ট। যার দলিল নং- ৪১২৯। তাং ১৮/০৭/২১ ইং। উক্ত জমির দলিল লেখক মো. রমজান আলী। যার সনদ নং-০৮/২০০৯ইং। তিনি ওই জমির শ্রেণি ডাঙ্গা থাকলেও কৌশলে তা দলা, ডোবা ও বাঁশঝাড় করেন। তাছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারের চোখে ধুলা দিয়ে মাত্র ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার মুল্য একখানা দানপত্র দলিল রেজিষ্টারী করে নেন।

ওই এলাকার সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুয়ায়ী দলিলটিতে ২ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার বিপরীদে ১৫ হাজার ১ শত ৮০ টাকার রাজস্ব ও স্ট্যাম্প ফাঁকি দেয়া হয়। এনিয়ে দলিল লেখকদের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনা ফাঁস হয়ে পড়ে। কিন্তু অবমুল্যায়ন দলিলটি রেজিষ্ট্রারীর ১ মাস পেরিয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে দলিল লেখক রমজান আলীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এরেই প্রেক্ষিত গত ১৩ আগষ্ট বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সদর সাব-রেজিস্ট্রার আঃ রশিদ নড়েচড়ে বসেন। ওই সময় তিনি এ প্রতিবেদনকে বলেন, আমি বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনে গেছি। সংশ্লিষ্ট দলিল লেখককে দলিল অবমুল্যায়নের ঘাটতি টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলেছি এবং তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে জবাব চাওয়া হবে। ১৬ আগষ্ট আসেন সব তথ্য পাবেন।
১৬ আগষ্ট, এ প্রতিবেদক আবারও তথ্য নিতে সদর সাব-রেজিস্ট্রার আঃ রশিদ এর কাছে যান। তখন তিনি অফিস সহকারী শাহ আলমকে দলিল অবমুল্যায়নের সব তথ্য দিতে বলেন।

অফিস সহকারী শাহ আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি এখনো দেয়া হয়নি। চিঠি খসড়া করা হয়েছে। ১৭ আগষ্ট, আসেন এর মাঝে দলিল লেখককে চিঠি দেয়া হবে। ওই দলিল লেখককে ১৭ আগষ্ট সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেয়া হয়। যার স্মরক নং ৬০। তাং ১৯/০৭/২১ইং।

১৭ আগষ্টের ইস্যুকৃত চিঠিতে ১৯ জুলাই তারিখের রহস্য কি, অফিস সহকারী শাহ আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার স্যার জানেন, আমি কিছু বলতে পাড়বো না।

সাময়িক বরখাস্তের চিঠিটি এক মাস বেগডেট দিয়ে ইস্যু আদেশে বলা হয়, পরর্বতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রমজান আলীকে দলিল লিখিত পঠিত ও মুসাবিদা করণ থেকে বিরত থাকার জন্য বল হল। উক্ত নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলিল লেখক রমজান আলী প্রায় প্রতিদিন কারও না কারও লাইসেন্স ব্যবহার করে দলিল লিখিত পঠিত ও মুসাবিদা করণের চিত্র এ প্রতিবেদকের ক্যামেরায় উঠে এসেছে।

একটি বিশ্বাস্থ্য সুত্র জানান, ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দলিল লেখক রমজান আলী যত দলিল করেছে তার অর্ধেকেই (অবমুল্যায়ন) সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। যা তদন্ত করলে প্রমাণ মিলবে।

এখানে আসল আর নকলের কোন ভেদাভেদ নেই, টাকা হলে সব হয়। দলিল লেখক রমজানেও কিছু হবে না। যা হচ্ছে তা লোক দেখানো। এসব ঘটনায় আজ পর্যন্ত কারও লাইসেন্স বাতিল বা শাস্তি হয়নি।

এ বিষয়ে দলিল লেখক রমজান আলী বলেন, সরকারী রাজস্ব ঘাটতি টাকা, আমি তা ব্যাংকে জমা করেছি। তারপরেও আমার কাছে জবাব চেয়ে সাব চিঠি দিয়েছেন। আমি জবাবও দিয়েছি।

সাব রেজিস্ট্রারের চিঠি কবে পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রমজান আলী বলেন, আমি ১৭ আগষ্ট চিঠি পেয়েছি এবং জবাবও দিয়েছেন। ১৯ জুলাইয়ের চিঠি ১৭ আগষ্ট পেলেন আবার জবাবও দিলেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি।

সদর সাব রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদ বলেন, ফাঁকি দেয়া রাজস্ব আদায় পূর্ব অভিযুক্ত দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তর আগেই জবাব দিল দলিল লেখক রমজান আলী এমন প্রশ্নে জবারে সাব রেজিস্ট্রার বলেন, আমি অফিসের নিয়ম মেনে তার কাছে জবাব চেয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার খালিদ মোহম্মদ বিন আসাদ জানান, সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। তবে অভিযোগ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102