বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

শতবর্ষী গাছ কর্তন : বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের সেই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

জয়ন্ত সাহা যতন, গাইবান্ধা ।। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের নির্মানাধীন প্লাটফর্ম উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো এবং যাত্রীদের ঝুঁকি কমানোর অযুহাতে শতবর্ষী গাছ ও ডালপালা বিধি-বহির্ভূতভাবে কর্তন এবং তা বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ওই স্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক মিয়াসহ (৫০) ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া রংপুর জেলার মহাদেবপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদি বামনডাঙ্গার ব্যবসায়ি জয়নাল আবেদিন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ বিজ্ঞ আমলী আদালতে গতকাল বুধবার (১৬ জুন) এ মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা নং সি,আর ২৩১/২১। বাদী জয়নাল আবেদীন উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামের মৃত ছাত্তার আহম্মেদের ছেলে।

অপর তিন আসামি হলেন, উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে কলোনীর শরীফ খানের ছেলে আশিক খান (৩০), রেলওয়ে খালাশী সাইফুল ইসলাম (৩০) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ব্যয়ে বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে দ্বিতীয় শ্রেনির আধুনিক প্লাটফর্ম ও ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মুসাফির খানা তথা ওয়েটিং হল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মোট ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে চলমান এসব কাজের দেখাশুনা ও তত্বাবধানে ছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর সহযোগিতায় স্থানীয়দের প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শতবর্ষী কয়েকটি গাছ ও ডালপালা বিধি-বহির্ভূতভাবে কর্তন করেন।

তিনি রেলওয়ে ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া গত ১ জুন ২০২১ থেকে ৬ জুন ২০২১ পর্যন্ত বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্ম ও আশপাশের কয়েকটি বড় গাছ কর্তন করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাছগুলো কর্তন ও বিক্রয়লদ্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে বা রেলওয়ে বিভাগের কোষাগারে জমা না দিয়ে ১৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। বাদি জয়নাল আবেদিন একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজ দায়িত্ববোধ থেকে গত ৩ জুন লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে অবগত করার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ১৬ জুন তিনি আদালতে এ মামলা করেন।

মামলায় বর্ণিত গাছের বিবরণ হচ্ছে স্টেশনের পিছনে বাদির দোকানের দক্ষিন পাশে একটি ৩০০ সিএফটির শিমুল গাছ, যার মূল্য ৩ লাখ টাকা। একটি কাঠাল গাছ ৪০ সিএফটি, যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। স্টেশনের দক্ষিন পাশে একটি রেইনট্রি গাছের ৪৬৬ সিএফটির ৪টি প্রধান শাখা ডাল, যার মূল্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। বাদির দোকানের পূর্ব পাশে দুইটি বড় রেইনট্রি গাছের ৩০ সিএফটির দুইটি প্রধান শাখা ডাল, যার মূল্য ৩ লাখ টাকা। একটি বড় আম গাছ, যার মূল্য ২ লাখ টাকা এবং একটি শিমুল গাছ, যার মূল্য ৪ লাখ টাকাসহ মোট ১৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আত্মসাৎ করেন।

এ মামলায় উপসহকারী প্রকৌশলী রাজ্জাকসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দর রাজ্জাকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102