মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়নি! একেই বলে লালমনিরহাটের দেউতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রভুভক্তি! উমাপতি হরনারায়ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাঞ্জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত, একজন আসামি গ্রেফতার লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ) মহাত্মাগান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়াড পেলেন লালমনিরহাটের তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজ পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে! লালমনিরহাট রেলওয়ে চুক্তিভিত্তিক টিএলআর, নিয়োগে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফিরোজ হারিয়েছে…

লালমনিহাট স্বাস্থ্য বিভাগ এখন এতিম!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে দাপটের সাথে চলছে লালমনিহাট স্বাস্থ্য বিভাগ। ভুয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট, বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অক্ষরহীন সাধারণ মানুষ। যেন দেখার কেউ নেই!।

লালমনিহাট স্বাস্থ্য বিভাগ এখন এতিম। জেলা শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান। অথচ নেই তাদের কোন নুন্যতম ফার্মাসিষ্টের প্রশিক্ষন।
জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। তার জন্য প্রয়োজন ফার্মাসিষ্টের অঙ্গীকারপত্র ও ফার্মেসী কাউন্সিল থেকে ৬ মাস মেয়াদি কোর্সের সনদপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র।

এছাড়া লাইসেন্সের জন্য সরকারি ফি হচ্ছে, পৌর এলাকার জন্য ২ হাজার ৫’শ ও ইউনিয়নগুলোতে ১ হাজার ৫’শ টাকা। তাছাড়া প্রতি দুই বছর পর পর নবায়ন করতে হয় লাইসেন্সটি। এর জন্য পৌর এলাকায় ১৮’শ এবং ইউনিয়নগুলোর ফার্মেসীর ক্ষেত্রে ৭’শ টাকা ফি নির্ধারিত।

কিন্তু এসব নিয়মগুলো অনিয়মে পরিনত হয়েছে লালমনিরহাটের ঔষধ তত্বাবধায়ক কার্যালয়ের অসাধু কর্মচারীর অর্থ বাণিজ্যর কারনে। বৈধভাবে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য প্রয়াজন ড্রাগ লাইসেন্স। আর সেটি সংগ্রহ করতে হয় ঔষধ তত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে। নিয়ম অনুযায়ী ফার্মাসিস্ট পাশ করা যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষিত ব্যক্তিদের ঔষধ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার কথা থাকলেও লালমনিরহাটে অতিরিক্ত উৎকোচের বিনিময়ে একাধিক অবৈধ লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জেলা ঔষধ তত্বাবধায়ক কার্যালয়ের অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট টাকা দিতে কেউ অপরাগতা প্রকাশ করলে, শিকার হন নানা হয়রানির আর বঞ্চিত হন লাইসেন্স থেকে। আশানুরূপ টাকার অংক মিলে গেলেই লাইসেন্সে স্বাক্ষর করেন কর্তৃপক্ষ।

জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে লালমনিরহাট জেলায় ১০৩৭ টি ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু করা আছে। এদের মধ্যে ঘুষের বিনিময়ে হওয়া লাইসেন্স গুলোর কিছু নমুনা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে যে সব লাইসেন্স টাকার বিনিময়ে হয়েছে সেসব দোকানের মালিকেরা ফার্মাসিস্ট নয়। তারা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে অন্য কারো নামে লাইসেন্স করে তা গোপনে ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে নিজের করে নিয়েছে। এভাবেই চলছে অধিকাংশ ঔষধের দোকানের ব্যবসা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ফার্মেসী পরিচালকগণ কোন ডিগ্রী না নিয়ে সকল রোগের চিকিৎসা প্রদাান ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঔষধ বিক্রি করায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। আর সবগুলোই ড্রাগ সুপারকে ম্যানেজ করেই করছেন তারা। তাই লালমনিরহাটের ভূক্তভোগী সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ লাইসেন্সধারীদের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ফার্মেসী মালিক বলেন, লাইসেন্স করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয় ড্রাগ সুপারকে। নির্দিষ্ট এই টাকা না দিলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়, প্রায় সময় বঞ্চিত হতে হয় লাইসেন্স প্রাপ্তি থেকে। তাই লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা করে যাচ্ছেন অনেক মালিকগণ।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঔষধ তত্ত্বাবধায়কের অনিয়মের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন তত্ত্বাবধায়ক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102