শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে বাড়ির দরজা কেটে দুর্ধর্ষ চুরি আগের মতো সড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে না : শাহজাহান খান লালমনিরহাটে ধর্ষণের চেষ্টায় জাসদ নেতা হাসমতের বিরুদ্ধে মামলা লালমনিরহাটে বসতভিটা ও চাষাবাদের ৩৩ শতক জমি রক্ষায় নিঃস্ব ফৈমুদ্দিন শুধুই কাঁদছেন! লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে অমানসিক নির্যাতনে অভিযোগ মই দিয়ে ৫ কোটি টাকায় সেতুতে উঠছেন স্থানীয়রা! ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

লালমনিরহাট রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের এটিএসের অফিসে বসেই সুখ টান!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ১৩৫ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী ও জাতির এই চরম ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমিকা অতুলনীয়। দেশের এমন কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে লালমনিরহাট জেলাও নভেল করোনার প্রার্দভাব রয়েছে। কিন্তু করোনা প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশনা মানছেন না বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক বিভাগ। অফিসে কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি পুরোদমে শুরু হলেও লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক বিভাগের (এটিএস) আবু তাহের তিনি নিজেই মাস্ক পরিধান করেন না। তাছাড়াও এটিএস আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অফিসে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান, কর্মচারীদের বাসা থেকে জোরপূর্বক রান্না করা খাবার নেওয়া ও সিগারেট কিনতে দিতে বাধ্য করা, অভিযোগ তদন্তে গড়িমসি, নিজের অফিস কক্ষটিকে বাস ভবন বানিয়ে ফেলাসহ বেশকিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাই সম্প্রতি সময় মাস্ক পরিধান ছাড়াই সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (এটিএস) আবু তাহের অফিসে বসে প্রকাশ্যে ধূমপানসহ বেশকিছু অনিয়মের চিত্র “নতুন বাংলার সংবাদ” এর ক্যামেরার উঠে এসেছে। আর এসব বিষয় নিয়ে খোদ রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এটিএস আবু তাহের উপর অনেকটাই ক্ষুব্ধ। যা তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

একজন ভোক্তভোগী জামান (৩২), তার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায়। বাড়িতে থেকে স্বল্প বেতনে লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন অস্থায়ী চুক্তি ভিত্তিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটের একটি ষ্টেশনের পোর্টারের দায়িত্ব পালন করেন। বেতন পান ১১/১২ হাজার টাকা মত। তা দিয়ে সংসারে অনেকটাই টানাপোড়া। আবার কোন মাসে বেতন পান, কোন কোন মাসে বেতন পান না। বাড়িতে মা অসুস্থ্য ও স্ত্রী গর্ভবস্থার কথা আকুতির সাথে জানালেও সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (এটিএস) আবু তাহের মানেন না। তিনি শুধু খাবারেই খেতে চান। জামান নিরুপায় হয়ে খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। একজন কর্মচারীকে মাসে একবার খাবার প্রদানে বাধ্য করেন না। প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩/৪ বার পোলাও আর মাংস (খাবার) খাওয়াতে হয় সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (এটিএস) আবু তাহের-কে। এভাবে নীরবে খাবার দিয়েই যাচ্ছেন শুধু জামানেই নন, ডিভিশনাল ট্রাফিক অফিসের অধীনে জামানের মত অনেক কর্মচারী আছে। তাদের বিভিন্ন ভাবে বাধ্য করেন এটিএস আবু তাহের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে। ফলে এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এটিএস আবু তাহেরের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এমনকি রেলওয়ের গার্ড ও টিটিরাও অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। তবে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না, কারণ রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির বদলি ও ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। ফলে শুধুমাত্র রিপোর্টে ছন্ম নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনাল ট্রাফিক বিভাগের (পরিবহন ও বাণিজ্যিক) সেবা খাতে সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট আবু তাহের যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে নানান কৌশলে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী কোয়ার্টার অথবা বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা পান। অথচ ২০২০ সাল থেকে তার অফিস কক্ষটিকে রীতিমত তিনি বাসভবন বানিয়ে ফেলেছেন। অফিস কক্ষে গোপন করে বসানো হয়েছে থাকার বেড, শুকানো হচ্ছে ভেজা কাপড়। ওই অফিস কক্ষে কেউ নেই, কক্ষ তালাবন্ধ থাকলেও কোন সময় বন্ধ হয় না ফ্যান। রেলওয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সম্পাদনের অফিসটিতে এটিএস আবু তাহেরের রাত্রি যাপন, ধূমপান করার পাশাপাশি দিনের বেশিভাগ সময় ডিভিশনাল ট্রাফিক বিভাগের অফিসের সহকারীদের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন আর প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। একটি সিগারেটও তিনি কিনে খান না। খান বেনসন সিগারেট। সব সময় তার নিচের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্ডার করেন। কারণে অকারণে রেলওয়ের গার্ড ও টিটিদের নানান মিথ্যা অভিযোগ তুলে উৎকোচ দাবী করেন। ২০০৫ সালে সরকার ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০১৩) প্রণয়ন হলেও সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট আবু তাহের প্রকাশ্যেই নিজের অফিসে দাপ্তরিক কাজে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে ধূমপান করেন। তার এই ধূমপানের কারণে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হলেও সহকারী প্রধান কর্মকর্তাকে কোনো কথা বলার দুঃসাহস দেখায় না কেউ। তিনি রাত ১২টা পর্যন্ত ষ্টেশন চত্ত্বরে ঘুরেন এতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দেখা মিলে তাদের নিকট থেকে সিগারেট কিনে নেন। আর যাদের বাড়ি একটু দুরে তাদের খাবার রান্না করে নিয়ে আসতে বলেন।
ওই কর্মচারী নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক শর্তে আরও বলেন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (এটিএস) আবু তাহের স্যার আমাকে ফোন করেন। আর বলেন, আজ বুয়া নেই, বেতন তুলতে আসবা না, আমার জন্য পোলাও মাংস (খাবার) রান্না করে নিয়ে আস। শুধু আমি নই, আমার মত অনেক কর্মচারীকে তিনি খাবারসহ সিগারেট কিনে দিতে বাধ্য করেন।
রেলওয়ের কয়েকজন গার্ড ও টিটি বলেন, আমরা আমাদের চাকরির বয়সে এমন এটিএস দেখিনি। এরা রেলওয়ের কর্তকর্তা নন, এরা গরীবের রক্তচোষা শারপোকা। নিজের বেতনের টাকায় হাত দিবেন না। ২০২০ সাল থেকে আজ একজন, কাল আর একজনের নিকট থেকে খাবার ও সিগারেটসহ নানান মিথ্যা অভিযোগ তুলে উৎকোচ দাবী করা তার নিত্যদিনের ঘটনা মাত্র।
একটি সুত্র জানান, এসময়ের রেলঙ্গনে সেরা আলোচিত দুর্নীতিবাজ অল্প সময় অঢল সম্পদের মালিক লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক অফিসে কর্মরত নুরুজ্জামান সোহেলের বিরুদ্ধে দুদকসহ রেলওয়ে বিভাগে অভিযোগ হয়। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রেল বিভাগ নড়েচড়ে বসে। ফলে ওই রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগটি রহস্যজনক কারণে তদন্ত না করলেও সেই অভিযোগ তদন্তর জন্য এটিএস আবু তাহের-কে তদন্তের দায়িত্ব দেন রেল বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, এটিএস আবু তাহের মোটা অংকের অর্থের বিনিময় তদন্ত থাকিয়ে রেখেছেন। দীঘদিন অতিবাহিত হলেও আজও সেই তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে সহকারী ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (এটিএস) আবু তাহের বলেন, ডিটিএস স্যারের অনুমতি সাপেক্ষে অফিসে মাঝে মাঝে রাত্রি যাপন করা হয়। আর আমার কাজ বাহিরে বেশি। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই সময় প্রকাশ্যে ধূমপানের বিষয়ে তিনি বলেন, মাঝে-মধ্যে অফিসে ধূমপান করি। তবে সবসময় না। কেউ কাউকে ভালবেসে বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে এসে খাওয়ালে খাই, আমি আজও কোন কর্মচারীদের কাছ থেকে জোড় করে খাবার নিয়ে খাইনি।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিন্টেনডেন্ট (ডিটিএস) আনিসুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটিএস অফিসে কোন ভাবে বসবাস করতে পারেন না। এসব বিষয় আমি জানি না, দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

(প্রিয় পাঠক চোখ রাখুন, আগামী সংখ্যায়, থাকছে রেলওয়ের আরও বিস্তারিত রিপোর্ট)।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102