বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে ৭ শতাধিক ভূতুড়ে বাড়িতে মানুষের বসবাস!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
  • ৬৫ বার দেখা হয়েছে
লালমনিরহাটে লাল রংয়ের এই ভবনগুলো বৃটিশ আমলে তৈরি। পুরনো এবং জীর্ণ অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ তারপরেও সেখানে মানুষ বসবাস করছেন। ছবি : বাংলার সংবাদ

৯১০ রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টারের ৭০০ বহিরাগতদের দখলে, লালমনিরহাটে লাল রংয়ের এই ভবনগুলো বৃটিশ আমলে তৈরি। পুরনো এবং জীর্ণ অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ তারপরেও সেখানে মানুষ বসবাস করছেন।

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভূতুড়ে বাড়িতে এখন ঝুঁকিতে মানুষ বসবাস করছেন। লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ৯১০টি রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টারের মধ্যে ৭০০টি বহিরাগতদের দখলে রয়েছে বলে খোদ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন।

রেল সুত্র জানান, রেল বিভাগীয় শহর লালমনিরহাটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোর্য়াটারের সংখ্যা ৯১০টি রয়েছে। তারধ্যে ৭০০টিই বেদখলে। লাল রংয়ের এই ভবনগুলো বৃটিশ আমলে তৈরি। পুরনো এবং জীর্ণ অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পরিত্যক্ত ঘোষণা করেনি রেল কর্তৃপক্ষ।

অথচ কোয়ার্টার ভবনের ছাদ ও ওয়ালে ফাটল, জানালা-দরজা নেই, বিধ্বস্ত ছাদ, ইটের ফাঁকে ফাঁকে আগাছা ভর্তি আর রয়েছে আবর্জনার স্তুপ। পাশাপাশি চুরি হয়ে যাচ্ছে ভবনের ইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। সন্ধ্যার পর ভবনের পাশে চলতে গা শিউরে ওঠে। মনে হয় কোয়ার্টারগুলো যেন ভুতুরে বাড়ি। পুরনো এসব কোয়ার্টার ব্যবহারের অউপযোগী হলেও কেউ বা পলিথিন আবার কেউ বা টিনের ছাউনি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্যক পরিবার বসবাস করছেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লালমনিরহাট রেলওয়ের অধিকাংশ আবাসিক কোয়ার্টারের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে জেলায় ১২টি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনসংলগ্ন আবাসিক কোর্য়াটারে স্টেশন মাস্টারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। বর্তমানে যার অধিকাংশই বহিরাগতদের দখলে। দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনগুলোতে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা না থাকায় যে যার মত দখল করে নিয়েছে। ফলে ভবন ধসের ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছে বহিরাগতরা। বহিরাগতদের দখলে থাকা এসব আবাসিক কোয়ার্টারে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ অনেক পুরোনো। এসব কোয়ার্টার যেন ভুতের বাড়ি, কিন্তু দেখার নেই কেউ। রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করা হলেও বার বার উচ্ছেদ করা হলেও কোর্য়াটারগুলো দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী কর্মকর্তা।

কোয়ার্টারে রাতের আঁধারে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা যুবকরা কোয়ার্টারের ইট, রড, কাঠ, দরজা-জানালা অবাধে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস রোডে পুরাতন রেলওয়ে সিনেমা হলের সম্পদ লোপাট হয়েছে। দখলকারীরা কেবল আবাসিক কোয়ার্টারই নয় পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কোয়ার্টারগুলোতে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, পুলিশ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মুহুরী, মুদি দোকানদার, বাস-ট্রাক চালক, হেলপার, হকার, এনজিওকর্মী, শ্রমিক ও দিনমজুররা দিব্বি বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছেন এসব ভবনে।

বসবাসকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা রেলওয়ের এক শ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাসাজশে অলিখিত চুক্তির ভিত্তিতে মাসিক ভাড়ায় কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস করছেন। যে ভাড়ার টাকা কোনোদিনই সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয় না।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা জানান, আবাসিক কোয়ার্টারগুলো কোনভাবেই দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। তবে অবৈধ দখলমুক্ত করতে আবারও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বিধ্বস্ত কোয়ার্টারগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102