শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে বাড়ির দরজা কেটে দুর্ধর্ষ চুরি আগের মতো সড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে না : শাহজাহান খান লালমনিরহাটে ধর্ষণের চেষ্টায় জাসদ নেতা হাসমতের বিরুদ্ধে মামলা লালমনিরহাটে বসতভিটা ও চাষাবাদের ৩৩ শতক জমি রক্ষায় নিঃস্ব ফৈমুদ্দিন শুধুই কাঁদছেন! লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে অমানসিক নির্যাতনে অভিযোগ মই দিয়ে ৫ কোটি টাকায় সেতুতে উঠছেন স্থানীয়রা! ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

লালমনিরহাটে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে ৩৫ মোটরসাইকেল চুরি: পুলিশ নীরব!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫১৪ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদকে ঘিরে লালমনিরহাটে মটরসাইকেল চুরির হিড়িক পড়েছে। এবারে চোর সিন্ডিকেটের টার্গেট হল নামী-দামী মটরসাইকেল চুরি। আর এ টার্গেট থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশ সদস্যর মটরসাইকেলও। মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৩০/৩৫টি মোটরসাইকেল চুরি হলেও একটি মটরসাইকেলও উদ্ধার করতে পাচ্ছে না পুলিশ। ফলে শহরজুড়ে মোটরসাইকেল চুরি আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানচালিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গারমোড় ইউনিয়নের ভাঙ্গারমোড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর পুত্র মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে বর্তমান ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত আছে। তার একটি ব্যবহারিত কালো রংয়ের ও লাল ষ্টিকার যুক্ত ১৫০ সিসি পালসার মটরসাইকেল ছিল। যার ইঞ্জিন নং-৭২২৮৯, চেসিস নং-৪৯৬০৭, মুল্য এক লক্ষ সাতষট্রি হাজার টাকা। মিনহাজুল ইসলাম লালমনিরহাট পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের খোচাবাড়ী এলাকার শ^শুর মঞ্জুরুল আলম চৌধূরী কাছে মটরসাইকেলটি রেখে কর্মস্থলে যান। মিনহাজুল ইসলামের শ^শুর মঞ্জুরুল আলম চৌধূরী একজন ক্লিনিক ব্যবসায়ী। তিনি মাঝেমধ্যে শ^শুর জামাতার মটরসাইকেলটি ব্যবহার করতেন।

কিন্তু গত (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টায় দিকে ক্লিনিক থেকে নিজ বাড়ি খোচাবাড়ীতে যান। ওই সময় মঞ্জুরুল আলম চৌধূরী বাড়ির গেটের সম্মুখে পালসার মটর সাইকেলটি রেখে বাড়ি ভিতরে যান। প্রায় ২০ মিনিট পর বাড়ি থেকে বাহির হয়ে দেখেন তার সাইকেলটি নেই। পরে তিনি আশপাশে অনেক খোজখবর করেও মটরসাইকেলটি না পাওয়ায় ওই দিনেই সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগটি তদন্তের জন্য ওসি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিলেও আজ পর্যন্ত মটরসাইকেলটি উদ্ধার হয়নি। ফলে পুলিশের উদ্ধার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তভোগীরা।

অপর একটি সূত্র জানান, চোর সিন্ডিকেটের টার্গেট শুধুমাত্র পুলিশ সদস্য মিনহাজুলের মটরসাইকেল নয়। ইতিমধ্যে মটরসাইকেল চুরির কবলে পড়েছে, সাবেক সেনা সদস্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ অনেকেই। চলতি এপ্রিল (১ থেকে ২০ তারিখ) পর্যন্ত মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩০/৩৫টি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরের নিজপাড়া, বুড়িরবাজার, বড়বাড়ী, মন্ডলেরবাজার, ব্র্যাক অফিস, শহরের ডালপট্রি রসুলপুর জামে মসজিদ থেকেও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। প্রায় প্রতিদিনেই মটরসাইকেল চুরি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল করছেন।

মঞ্জুরুল আলম চৌধূরী বলেন, আমার জামাতা একজন পুলিশ সদস্য। তার একটি ব্যবহারিত কালো রংয়ের ও লাল ষ্টিকার যুক্ত ১৫০ সিসি পালসার মটরসাইকেল ছিল। জামাতা ঢাকায় থাকার সুবাদে মাঝেমধ্যে আমি মটরসাইকেলটি ব্যবহার করতাম। ১৫ এপ্রিল বাড়ির গেটের সম্মুখে পালসার মটর সাইকেলটি রেখে বাড়ি ভিতরে যান। প্রায় ২০ মিনিট পর বাড়ি থেকে বাহির হয়ে দেখেন তার সাইকেলটি নেই। ওইদিনেই থানায় অভিযোগ করেছি, চোর সর্ম্পকে পুলিশকে ধারণাও দিয়েছি। কিন্তু কোন সুফল পাচ্ছি না। পুলিশ চাইলে তার চুরি যাওয়া এই মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করতে পারে। এখানে পুলিশের অভাব আন্তরিকতার। পুলিশ পুলিশের চুরি যাওয়া মটরসাইকেল উদ্ধারে ব্যর্থ।”

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ব্রাক এনজিওতে চাকুরি করি। প্রতিদিনের মতো অফিসের সামনে মোটরসাইকেল রেখেছি। দশ মিনিটের মাথায় অফিসের সামন থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেলো। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারন ডায়েরী করলেও এখনও কোনো ফলাফল আসেনি।

মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার হতবাক আবু তালেব মন্ডল বলেন, আমি আমার দোকানের সামনে মোটরেসাইকেল রেখে নামাজে যাই। নামাজ পড়ে এসে দেখি মোটরসাইকেল নেই। রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি মোটরসাইকেলটি কে বা কাহারা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ধাওয়া করেও ধরতে পারিনি চোরকে। এ ঘটনায় সদর থানায় এজাহার দিয়েছি। তবে এখনো কোনো ফলাফল পাইনি।

এ বিষয়ে সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, একইদিনে তিনটি মোটরসাইকেল হারানোর ঘটনা দুঃখজনক। মটরসাইকেল চুরির ঘটনায় আমরা সাধারন ডায়েরি ও অভিযোগ পেয়েছি। আমরা মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্ঠা করছি।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদকে ঘিরে লালমনিরহাটে মটরসাইকেল চুরি ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। চুরি যাওয়া মটরসাইকেল উদ্ধারের পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর সিন্ডিকেটকে ধরতে পুলিশ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102