সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে পাসপোর্ট অফিসে ঘুষের টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল!

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২
  • ২১০ বার দেখা হয়েছে
  1.  অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাড়তি টাকা দিলেই ভুলটা আর ভুল থাকেনা সঠিক হয়ে যায়। আর না দিলে আবেদন ফরমে ভুল আছে, আবেদন ফরম সঠিক হয়নি দাবী করে চলে দিনের পর দিন হয়রানি। আর এভাবে চলতে থাকা লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে। এদিকে হয়রানির শিকার পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের অভিযোগও আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। বিদেশে কর্মসংস্থান কিংবা চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট-এর জন্য ছুটে যেতে হয় পাসপোর্ট অফিসে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে জরুরি ফি প্রদান করে আবেদন করেন গ্রাহকরা। কিন্তু সময় মতো পাটপোর্ট না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হয় গ্রাহকদের। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি টাকা আদায় করছে। লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০১৩ সাল থেকে ৯বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত থাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছে অফিসের পরিছন্ন কর্মী বাবুল মিয়া। অফিসের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন ও পরিছন্ন কর্মী বাবুল মিয়ার মাধ্যমেই চলে অফিসের ঘুষ বাণিজ্য। অনলাইনে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার পর অফিসে কাগজ জমা দেয়ার পর থেকে শুরু হয় সেবা প্রত্যাশীদের বিড়ম্বনা। পাসপোর্ট প্রত্যাশিরা অফিসে প্রবেশ করলে অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই বাবুল ও আনোয়ারের সাথে কথা বলতে হয়। তাদের হাতেই হয় লেনদেন। পরে অফিস শেষে সেই ঘুষের টাকা পৌঁছে যায় নিচ তলা থেকে উপর তলা পর্যন্ত। তাদের দাপটে যেন নিশ্চুপ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা। আর সাধারন পাসপোর্ট প্রত্যাশিরা পোহাচ্ছেন ভোগান্তি। জানাগেছে, সম্প্রতি ওই পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেন পাসপোর্ট প্রদানের সময় হারুন-অর-রশিদ নামে এক স্কুল ছাত্রের কাছে ১৫শত টাকা দাবী করেন। ওই ছাত্র ঘুষ চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক’এ ভাইরাল করে। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে সমালোচনার শুরু হয়। আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের দুবাই প্রবাসী রাশেদা বেগম (৪০) জানান, আমার পাসপোর্ট বই হারিয়ে যায়। পরে থানায় জিডি করে অফিসে যাই। অফিসে ঢোকা মাত্রই পরিচ্ছন্ন কর্মী বাবুল মিয়া এসে আমার কাছে এক হাজার টাকা চায়। বলে, টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যাবে। না দিলে পাসপোর্ট বই পেতে সময় লাগবে। অনলাইনে আবেদনের পর কাগজ জমা দিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, এক সপ্তাহ থেকে ঘুরছি। জমা নিচ্ছে না। সকালে বলে দুপুর ১টায় আসেন, দুপুরে আসলে বলে স্যার নেই। পরে গত রোববার (২০ ফেব্রুয়ারী) পরিচ্ছন্ন কর্মী বাবুল মিয়াকে বাড়তি এক হাজার টাকা দিলে সাথে সাথেই আবেদনটি জমা নেন। হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকার সাজু মিয়া জানান, মায়ের চিকিৎসায় ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন। অনলাইনে আবেদন করেছি, কিন্তু বাবার নামের জায়গায় মোহাম্মদ বসে গেছে। আর এই ভুলটির জন্য পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীরা আবেদন ফরম ও ফি জমা নিচ্ছিলো না। পরে বাড়তি এক হাজার টাকা দিলে আবেদনটি জমা নেন। সদর উপজেলার হারুন অর রশিদ জানান, আমার চাচা সিঙ্গাপুরে থাকেন। পাসপোর্ট করে দ্রুত ওই দেশে যেতে হবে। লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আবেদন জমা দিলে আমার পাসপোর্টে চলে আসে। অফিসে পাসপোর্ট নিতে গেলে অফিস কর্মচারী আনোয়ার হোসেন আমার কাছে মিষ্টি খাওয়ার জন্য ১৫ শত টাকা দাবি করে। টাকা না দিতে পারায় পাসপোর্ট দিতে নানা আযুহাত দিচ্ছিলো। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক’এ অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার বিষয়টি পোষ্ট দিলে ওই পোষ্ট ডিলেট করার শর্তে তাকে পাসপোর্ট দিয়ে দেয়। আরও জানা গেছে, লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী
বাবুল মিয়া ও অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেনের নিয়ন্ত্রণে পুরো পাসপোর্ট অফিস। টাকা ছাড়া পাসপোর্টের আবেদন জমা নেন না তারা। কমপক্ষে ১৫০০টাকা থেকে ২৫০০টাকা দিলে এক দিনেই আবেদনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে দেন তাঁরা। টাকা দিতে না পারলে শুরু হয় গ্রাহক ভোগান্তি। আবেদনে নানা ধরনের ভুলত্রুটির কথা বলে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। শেষে বাধ্য হয়ে একসময় হার মেনে নিয়ে ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট নেয় গ্রাহকরা।
লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন ও অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী বাবুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা পাসপোর্ট দেয়ার জন্য আবেদন জমা নিয়ে কোন টাকা নেই না। তবে খুশি হয়ে কেউ টাকা দিলে সেটা গ্রহন করে বলেও তারা স্বীকার করে।
লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক বজলুর রশিদ জানান, ওই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102