শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১৭ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে কৃষকের ৫৬ হাজার বস্তা সার ডিলার সিন্ডিকেটে!

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৯৭ বার দেখা হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ এক বস্তা সার এখন প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন। শুধু মাত্র চলতি বছরের আগস্ট মাসে লালমনিরহাটে কৃষকের জন্য প্রায় ৫৬ হাজার বস্তা ইউরিয়া সার ডিলার সিন্ডিকেটের পকেটে। বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা প্রতি মাসেই সার উত্তোলনে নামে ডিও বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, শুধুমাত্র আগস্ট মাসে ইউরিয়া ২ হাজার ৭ শত ৯৯ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে বস্তার পরিমাণ ৫৫ হাজার ৯শত ৮০টি। প্রতিটি বস্তার সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১১শত টাকা। এরচেয়ে কেউ অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

জানা গেছে, বাফার গোডাউনে সার পর্যাপ্ত রয়েছে। এসব সার সরকার অনুমোদিত বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা ডিও আকারে উত্তোলন করে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরকার নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করবেন। কিন্তু এসব ডিলাররা কৃষকের মাঝে সার বিক্রিতে নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলারের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি মাসেই সার উত্তোলনের নামে চলছে ডিও বাণিজ্য। বাফার গোডাউন থেকে সার না উত্তোলন করেই অধিকাংশ ডিলার করছে ডিও বিক্রি। তা আবার ক্ষমতাসীন ডিলাররা ডিও কিনে শহরের গোডাউনে মজুদ করেছেন সার। বাজারে সার সংকট দেখিয়ে, সার বিক্রয় না করে, সার উঠালেও বেশি ভাগ সার করছেন গোডাউনে মজুদ।

তবে আদিতমারী উপজেলায় সারের দুর্নীতি বেশি হয়েছে। এভাবেই গত এক মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বাণিজ্য করে বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা। লোকসান গোনতে হচ্ছে কৃষককে। আর এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। কারণ অভিযোগ উঠেছে, ডিও বিক্রির টাকা যায় অধিকাংশ উপজেলার পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার পকেটে।

এমনকি ডিও বিক্রির সহযোগিতাসহ বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলারদের দোকানে দোকানে বসে ডিও প্রতি কালেকশন করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে আগস্ট এক মাসে অতিরিক্ত মূল্য সার নিয়ে কৃষক লোকসান প্রায় ২ কোটি টাকা। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে উৎপাদন খরচ।

আদিতমারীর কমলাবাড়ীর সবজি চাষী আলাল মিয়া জানান, এমওপি সার বাজারে বিক্রি করছে ১৮শত টাকা, ইউরিয়া সার ১২শত টাকা। ডিলারের দোকান বন্ধ থাকে সারাক্ষণ। তাই খুচরা দোকান ছাড়া উপায় নাই। পলাশীর কৃষক রহিম, বকুল মিয়া, সালামেরও একই অভিযোগ। সরকারী মূল্য প্রতি বস্তা ৭শত ৫০ টাকা। সেই সার কিনছে ১৬শত টাকায়। এতে কৃষক প্রতি বস্তা এমওপি সারে ৮শত ৫০ টাকা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনছে। ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি তিন সার কৃষক অতিরিক্ত মূল্য দিয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

জেলা বিসিআইসি ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, এর জন্য দায়ী খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে বিসিআইসি ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাস থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের সার দেয়া বন্ধ রেখেছে। আদিতমারী উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলী নুর রহমান এর কারনে এই উপজেলায় বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা সার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এ উপজেলায় খুচরা সার ব্যবসায়ীরা এখনও অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করছেন।

কৃষক ক্ষেত মজুর নেতা মো.হাফিজ ফেরদৌস স্বপন জানান, যে সমস্ত ডিলার কৃষদের নিকট অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করে কৃষকের ২ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করতে হবে। ওই সমস্ত বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলারের দুর্নীতির বিষয়ে মামলা হওয়া প্রয়োজন।

সনাকের (টিআইবি) সদস্য ডা. আশিক ইকবাল জানান, এক মাসে কৃষকের পকেট থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত সার বিক্রিতে নেয়া তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ডিলারশীপ বাতিল করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে ডিলারদের সার বিক্রির ওপর কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতারা সার্বক্ষণিক থাকছে মাঠে। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, কেউ অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102