সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র মোটর শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২
  • ২২৪ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ।। লালমনিরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোটর শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এ সময় শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির সমর্থকরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল হকের বিনিময় তেলের পাম্পে হামলা চালায়। এ ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের করায় ঢাকাগামী নৈশকোচের যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়ে। রোববার (২০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনস এর পাশে বাস টার্মিনাল এলাকায়। এ ঘটনায় সোমবার (২১ মার্চ) দফায় দফায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। ফলে জেলা শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের পুরাতন কমিটি দিয়ে চলছে লালমনিরহাট বাস মিনিবাস শ্রমিক সংগঠন। পুরাতন কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সম্পাদক বুলবুল শ্রমিকদের কার্যালয়ের জন্য ক্রয় করা জমি গোপনে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং দুইভাগে বিভক্ত হয় শ্রমিকরা। পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তের দাবিতে রোববার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে সাধারণ শ্রমিকরা। এতে বর্তমান কমিটি বাঁধা দিলে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় বিকেলে শিফাত হোসেন মুন্না নামে একজন সাধারণ শ্রমিক বাদী হয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদকে প্রধান করে ছয়জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরই জের ধরে রাত ৮টার দিকে বর্তমান কমিটি আমিনুল-বুলবুল গ্রুপের কতিপয় শ্রমিক শহরে দেশি অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। মিছিলটি পুলিশ লাইনস এর সামনে বিনিময় ফিলিং স্টেশনের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সাধারণ শ্রমিকরা ছুটে এলে পিছু হটে বর্তমান কমিটির শ্রমিকরা।
পরে বিনিময় ফিলিংস স্টেশন ভাঙচুরের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে সাধারণ শ্রমিকরা রংপুর-লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় ঢাকাগামী নৈশকোচসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে নৈশকোচের যাত্রীরা।
শ্রমিক নেতা রবিন হোসেন বাপ্পি বলেন, দুপুরে তারা একবার হামলা চালিয়ে আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের আহত করে। পরে আবার তারা রাতে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের না পেয়ে বিনিময় তেলের পাম্পে হামলা চালায়। আমরা সাধারণ শ্রমিকরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবী জানাই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান, তিনি বলেন, শ্রমিকদের সাথে কয়েক দফায় কথা বলে রাতের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। এ ঘটনায় জেলা শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় রকমের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102