বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ)

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২
  • ১৮৫ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার।। অটোরিক্সা ভাড়ার কথা বলে লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী করার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের এ জেড এন নাঈম বসুনিয়া সাধন সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সালিশী আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সালিশী আদালতের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের তালুক মৃত্তিকা গ্রামের মৃত হামদার আলীর ছেলে আলম মিয়া (৪৫)। তিনি পেশা একজন অটোরিক্সা চালক। গত ৩১ জুলাই বিকাল ৫ টায় মোস্তফী বাসস্ট্যান্ডে থেকে আলম মিয়ার অটোরিক্সা নিয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাঘের বাজার যাওয়ার জন্য ভাড়া করেন একই ইউনিয়নের রতিপুর বসুনিয়াটারী গ্রামের এ জেড এন আবু সাদেক বসুনিয়া ছেলে এ জেড এন নাঈম বসুনিয়া সাধন, একই এলাকার এছাহাক আলীর ছেলে লাল মিয়া, জহির মিস্ত্রির ছেলে আব্দুর রহিম ও হাসান।

উক্ত ৪ জনকে নিয়ে বাঘের বাজার যাওয়ার মাত্র হারুন মিয়ার সার ও কীটনাশকের দোকানের ভিতরে নিয়ে অটোরিক্সা চালক আলম মিয়াকে জিম্মি করে ফেলেন। ওই সময় তারা অটোরিক্সা ও আলম মিয়ার জীবনের বিনিময় মুক্তিপন হিসেবে ৬৫ হাজার টাকা দাবী করেন। এরই মধ্যে অপহরণকারীরা আলম মিয়ার স্ত্রীর কাছে মোবাইলে কল করে মুক্তিপণ দাবীকৃত টাকা চান। দাবীকৃত মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব হওয়ার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আলম মিয়ার উপর চলে এ অমানসিক নির্যাতন।

এমনকি সেই নির্যাতনের অাওয়াজ আলম মিয়ার স্ত্রীর মোবাইলে কল করে শুনান অপহরণকারীরা। এতে আলম মিয়ার স্ত্রী নিরুপায় হয়ে অটোরিক্সা চালক স্বামীকে বাঁচাতে আশপাশের লোকজনসহ গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ টোটনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবীর বিষয়টি জানান। ঘটনাটি শুনে চেয়ারম্যান এ জেড এন নাঈম বসুনিয়া সাধনের মোবাইলে ফোন করে অটোরিক্সা চালক আলম মিয়াকে তার পরিবারের কাছে ফিরতের নির্দেশ দেন। ফলে বেকায়দায় পরে যান অপহরণকারীরা। পরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অপহরণকারীরা অটোরিক্সা চালক আলম মিয়াকে তার পরিবারের নিকট ফিরত দেন।

পরে আলম মিয়ার পরিবারের লোকজন আলম মিয়ার শরীরিক নির্যাতনের ক্ষতচিহৃ দেখে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সার্জারি বিভাগ, যার ওয়ার্ড নং- এমএসডাব্লু ৪৮, তাং-০১/০৮/২২ইং।

এ ঘটনায় ৩ আগষ্ট আলম মিয়া বাদী হয়ে, চেয়ারম্যান, গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সালিশী আদালতে উল্লেখিত এ জেড এন নাঈম বসুনিয়া সাধন, লাল মিয়া, আব্দুর রহিম ও হাসানের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের নোটিশ করে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ টোটন ১৩ আগষ্ট সালিশী আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন।

অটোরিক্সা চালক আলম মিয়া বলেন, আমি গরীব, অভাবের সংসার, অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। পরিকল্পিতভাবে মুক্তিপনের টাকা না পেয়ে আমাকে অকারণে শরীরিক নির্যাতন করেন। অপহরণকারীরা প্রভাবশালী থানা মামলা করলে আমাকে মেরে ফেলবে তাই সালিশী আদালতে অভিযোগ করেছি।মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আমাকে অহেতুক নির্যাতন করায় আমি তার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ টোটন বলেন, বিষয়টি পরিষদের মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে মিমাংসার না হলে থানায় হস্তান্তর করা হবে।
ভিডিওঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102