সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

লালমনরিহাটে এক ডিটিএসের ৩ সেবক!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৮৭ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এক ডিটিএসের ৩ সেবক। বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) মোছাঃ খালিদুননেছা বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার অভিযোগ উঠেছে। তিনি রেলওয়ে মহাপরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে ৩ জন টিএলআরকে নিজ বাসায় কাজে রেখেছেন।

বিধিমতে, ওয়েম্যান, খালাসী ও অন্যান্য কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করার নিয়ম থাকলেও ওয়েটিং রুম বেয়ারা রেহানা বেগম, আয়ার কুক হারুন ও পিম্যান জাকির হোসেন-কে ডিটিএস মোছাঃ খালিদুননেছা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বাসার কাজ করাচ্ছেন। এ ঘটনায় গোটা লালমনিরহাট রেলঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জট সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, মহাপরিচালকের কার্যালয়, সংস্থাপন-৩ শাখা, রেলভবন, ঢাকার পত্র নং-৫৪.০১.০০০০.০০৬.১১,০১৮,১৩। (পার্ট-১)-১৩০, তারিখ: ১ আগষ্ট, ২০১৯ সালের পত্রের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৮ আগষ্ট চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) এর কার্যালয়, রাজশাহী নং-৫৪.০১.৮১০০.১৫৪.১০.০৩১.১৯ স্মারকে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার সহ ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) কে জানানো হয়েছে, ওয়েম্যান, খালাসী ও অন্যান্য মাঠ পর্যায়ে কর্মচারীদের অফিস কাজে/বাসা বাড়ীতে নিয়োজিত করা যাবে না।

উক্ত পত্রে আরো জানানো হয়েছে, ট্রেন অপারেশনের সাথে জড়িত মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের দপ্তরিক কাজে অফিসে অথবা বাসা বাড়ীতে নিয়োজিত করা হচ্ছে বলে পত্র-পত্রিকায় ইতিমধ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি রেল মন্ত্রী নজরে এসেছে। তাই বাসা বাড়িতে নিযোজিত ওয়েম্যান, খালাসীসহ সকল মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের তাদের নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ওইসব নির্দেশনার একটি অক্ষরও মানছেন না লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) মোছাঃ খালিদুননেছা।

একটি বিশ^াস্থ্য সূত্র জানান, রেলমন্ত্রী ও মহাপরিচালকের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) মোছাঃ খালিদুন নেছা ১২ সেপ্টেম্বর/২১ইং তারিখে লালমনিরহাটে যোগদানের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩ জন টিএলআর পদে কর্মরত কর্মচারীকে তার বাসায় কাজে নিয়োজিত করেছেন। যেখানে একজনেই যথেষ্ট, সেখানে ৩ জনকে রাখা হয়েছে। তারা তো কর্মচারী নন, যেন তার ব্যক্তিগত সেবক। অথচ এসব টিএলআরদের বেতন দেন সরকার, আর কাজ করেন ডিটিএসের বাসায়। যা সম্পন্ন বে-আইনি। রেলওয়ে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই, ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) মোছাঃ খালিদুননেছা লালমনিরহাটে যোগদানের পর যেন এক অদ্ভুত নিয়মে চলছে এ দপ্তরে।

ওয়েটিং রুম বেয়ারা রেহানা বেগম, আয়ার কুক হারুন ও পিম্যান জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ প্রতিবেদককে কোন কিছুই বলতে রাজি হননি। তারা শুধু বলেন, আমরা ছোট কর্মচারী। আমরা অফিস/বাসা বাড়ী বুঝি না। সেখানে হুকুম করেন ডিটিএস অফিস, সেখানেই কাজ করি। কারণ, আমাদের চাকরি অস্থায়ী। এ চাকরির ভবিষ্যৎ ডিটিএসের কলমের খোচায়। তাই তারা ভয়ে মুখ খুলছেন না। নীরবে এক ডিটিএসের ৩ সেবক হিসেবে ২৪ ঘন্টাই বাসার সব কাজ করছেন।

রেলঙ্গনে কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, তিনি এতো ক্ষমতাধর ব্যক্তি যে, তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পান না। তার দাপটে ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট অফিসের অন্যন্যা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে বদলি করে দেন অন্য জায়গায়। সরকারি দপ্তরে সাধারণত কাজের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। সে সময়ের এখানে কোন বালাই নেই।

সম্প্রতি সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। ডিটিএসকে নাস্তা দিতে বিলম্ব হওয়ায় দুইজন কর্মচারীকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। সরকারের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ডিটিএসের তৈরি করা নিয়মে চলাচ্ছেন অফিস। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ডিটিএসের অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণ, কাজের পরিবেশ নষ্ট করাসহ নানা অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট খালিদুন নেছার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি তার অফিসে গিয়ে দেখা পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, রেল কর্মচারিদের মুখে অনেক কথাই শুনতে পাই। একে বারে ৩ জন টিএলআরকে নিজ বাসায় কাজের জন্য রাখা অবৈধ। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102