মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

লকডাউনের এপিঠ ওপিঠ : মোমিন মেহেদী

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৯৬ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে সাধারণ মানুষ যখন নির্মম মহামারির কারণে চাকুরী-ব্যবসা হারিয়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, তখন নিরন্ন কোটি কোটি মানুষকে আবারো লকডাউনের চক্করে ফেলে অর্থনীতিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে একটি দুর্নীতিচক্র। এই চক্রটিই কোটি কোটি লোপাট করার লক্ষ্য থেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বর্ষ পালনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসাহ যুগিয়ে করোনা ছড়ানোর রাস্তা প্রশস্ত করেছে একদিকে অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী পালনে উৎসব বড় আকারে করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে; ছড়িয়েছে-বাড়িয়েছে করোনা আক্রান্তর সংখ্যা। তৈরি করেছে লকডাউন দেয়ার প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ার কারণে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, বাড়ছে পরিবহন ভাড়া আর বেকার-দরিদ্রের সংখ্যা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে হেফাজতে ইসলামের মত অবিরত অন্ধকারে এগিয়ে চলা লোভি ব্যক্তিগণ। যখন সারাদেশে অন্ধকার দানা বেঁধেছে; ছাত্র-যুব-প্রবাসী-শ্রমিক অধিকার পরিষদের নামে মানুষের সাথে রাজনৈতিক প্রতারণায় নেমেছে; তখন লকডাউনের এই প্রক্রিয়া অসংখ্য মানুষকে আবারো চরম হতাশা আর অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি সব দপ্তরে অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোতে ৫৫ বছরের বেশি বয়সের কর্মকর্তা, অসুস্থ কর্মকর্তা, গর্ভবতী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোতো বরাবরই কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের নাটক বানাতে তৈরি। তারা লকডাউন দিয়ে আরাম করে বাসায় ঘুমাতে পারলেই যেন বাঁচে। তাতে করে দেশ-মানুষ-সমাজ-জীবন-অর্থনীতি ধ্বংস হলে কিছুই যায় আসে না। মাস শেষে সরকারি আমলা-কর্মচারিদের বেতন যেমন তৈরি থাকে, থাকে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির পার্সেন্টিজ। যে কারণে নাটকিয়ভাবে করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আগের মতো কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে রোস্টার তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ দফা নির্দেশনার প্রতিটি বিষয় মেনে অফিস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্য সব মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে হারুন বলেন, অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা সব সরকারি দপ্তরের জন্য বাধ্যতামূলক। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সরকারি দপ্তর রোস্টার তৈরি করে অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছে।

মন্ত্রীরা তো অপেক্ষায় আছে লকডাউন আর সাধারণ ছুটির। যে কারণে তারা বর্বরের মত বলে দেয়- আগামী দু-একদিনের মধ্যে অর্ধেক জনবল নিয়ে সরকারি অফিস পরিচালনার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে ২৯ মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে বলা হয়- জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান শিল্প-কারখানা ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী, অসুস্থ, বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রজ্ঞাপনে সরকারি আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ জনবল নিয়ে অফিস পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বার্তা দিয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। যেহেতু হঠাৎ করে এটি, তাই কেউ কেউ হয়তো ৭০ শতাংশ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি দু-একদিনের মধ্যে যারা অত্যন্ত জরুরি কাজে সম্পৃক্ত নন সেখানে জনবলের অর্ধেক থাকবেন।অধিকাংশ মন্ত্রণালয় সেটা (নির্দেশনা) বাস্তবায়ন করেছে, আমি মনে করি যদি কেউ বিভিন্ন কারণে করতে পারেনি, আমাদের তো কমিটমেন্ট আছে এ দিনের মধ্যে সার্ভিসটি দিতে হবে, সেখানে হয়তো ৭০-৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। ডিউটি রোস্টার ভাগ করে দেওয়ার একটি বিষয় রয়েছে, আমার মনে হয় দ্রুত সেটা করতে যাচ্ছি। সরকার খুব আন্তরিক যে, এ সংক্রমণটা আমাদের রোধ করতে হবে। আগের অভিজ্ঞতা আছে, চোখের সামনে দেখলাম সংক্রমণ কীভাবে বেড়ে গেল, আবার আমাদের সদিচ্ছার মাধ্যমে সেটা কমে গেল।

আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকারি অফিসগুলো আগেও এ অনুশাসন মানার ক্ষেত্রে বিশেষ করে আমাদের মন্ত্রণালয় শতভাগ সফল ছিলাম। সেভাবেই এবারও আমরা দ্রুত করতে পারব। আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা এখন ওয়েল ইকুইপড, ডিভাইসগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় আমরা জানি। আমরা একটি বছর কীভাবে বাসা থেকে অফিস করতে হয় সেটা সফলভাবে পরিচালনা করেছি। আমরা যে ডিউটি রোস্টার করব সে অনুযায়ী হয়তো কাউকে কাউকে তিন দিন অফিসে থাকতে হবে, দুদিন বাসায় থেকে কাজ করবে। পরের সপ্তাহে আবার যারা বাসায় ছিলেন তারা অফিস করবেন।’

এভাবে বাংলাদেশকে করোনার ভয় দেখিয়ে অর্থনৈতিক ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য নিপুন ষড়যন্ত্র চলছে। যে ষড়যন্ত্রর কারণে নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে ক্রমশ অন্ধকার। সেই অন্ধকারে রাজনৈতিক পাষন্ডরা কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা, বানানো হচ্ছে একের পর এক সিন্ডিকেট। আমলারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিদারুণ কষ্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য চাই পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্ত আর যাই হোক কোন শিক্ষককে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করবে না। কোন বেকারকে করবে না আত্মহত্যার মুখোমুখি। কোন ব্যবসায়ীকে হারাতে হবে না নিজের ব্যবসার পূঁজি। যন্ত্রণায় ভুগতে হবে না নিদারুণ-নির্মমতায় অসংখ্য মানুষকে।

কতটা সত্য, কতটা মিথ্যে তা জানি না; তবে এতটুকু জানি যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশে এসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী পালন শেষে ফিরে যাবার পর থেকে লাগামহীন হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউ তুলনামূলক ভয়াবহরূপে আবির্ভূত হয়েছে। এ কারণে সরকারকে একে একে বন্ধ করতে হচ্ছে সবকিছু। ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটন কেন্দ্র। বাতিল করা হচ্ছে হোটেল-মোটেলে আগাম নেয়া বুকিং। পাশাপাশি নতুন বুকিংও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কোথাও সন্ধ্যার পর জনগণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। আবার কোথাও ওষুধ এবং কাঁচামালের দোকান ও বাজার বাদে অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এমন একটা পরিস্থিতিতে তাদেরকে ২ টি বাস্তবতার কাহিনী শোনাতে চাই। প্রথমটি লিখেছেন সংবাদযোদ্ধা সানাউল হক সানী। তিনি লিখেছেন- ‘৩১ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন একজন। পাঁচজনের সংসার খুব ভালো না চললেও, টেনেটুনে চালানো যেত। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই বেতন অর্ধেক করে দিলো কর্তৃপক্ষ। বেতনের সেই গ্রাফ আর উর্ধ্বমুখী হয়নি। বাসাভাড়া বকেয়া। স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামে পাঠিয়ে কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
তিনি সৌভাগ্যবান, চাকরি যায়নি। কিন্তু আমার পরিচিত অন্তত পঞ্চাশজন রয়েছে যারা করোনাকালে চাকরি হারিয়েছেন। বেশিরভাগ গণমাধ্যমে হয়েছে নির্দয় ছাটাই। বড় বড় বেসরকারি কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচন নীতিতে চাকরি খুইয়েছে মানুষ। অনেকের বেতন কমেছে। সারা জীবন ব্যবসার নামে শ্রমিকের টাকা লুট করলেও করোনার এই সময়টাতে তারা নির্দয় হয়েছেন।

রাজধানীর বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও কিন্ডারগার্টেনগুলো বন্ধ। চাকরি খুইয়েছেন সেইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অনেকে এখনও বেকার, কেউ কেউ হয়তো খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টায় রয়েছেন। পাঠাও, উবার চালাচ্ছেন কর্ম হারানো তরুণরা। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা গ্রেফ পথে বসে গেছে। এরা না পারছে ভিক্ষা করতে, না পারছে প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে।
সব হারানো মানুষগুলো ঘুড়ে দাড়ানোর চেষ্টায় আছেন। করোনার গ্রাফ আবার ভয়াবহ উর্ধ্বমুখী। এরপরেও কোনোভাবেই লকডাউন কাম্য নয়। প্রায় প্রতি ঘরে ঘরে করোনা আক্রান্ত। লকডাউন ডেকেও সংক্রমণরোধ সম্ভব নয়।

প্রথমদিকে টোলারবাগ লকডাউন সফল হয়েছিল। এরপরে কিন্তু রাজাবাজার, ওয়ারিতে লকডাউন সফল হয়নি। কারণ তখন পুরো কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পরেছিল করোনা। ফলে অহেতুক প্যানিক না, বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত দরকার।

প্রাইভেট কোম্পানির মাফিয়ারা হা করে বসে আছেন। লকডাউন ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে আবারও চাকরি হারাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ। গণমাধ্যমে হবে গণছাটাই। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। রাষ্ট্র এসব মাফিয়াদের কাছে চুনোপুটি। লকডাউন ডেকে কর্মহীন বিপুলসংখ্যক মানুষকে খাবারের জোগান দিতেও পারবেনা রাষ্ট্র।

ক্ষুধার্ত মানুষকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। মা, স্ত্রী-সন্তানের কাছে ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে মৃত্যু অনেকাংশে শ্রেয় সাধারণের কাছে। মধ্যবিত্তের সংসারে জমানো সামান্য কিছু টাকা থাকে। মা, স্ত্রীদের অল্পস্বল্প গয়নাগাটি থাকে। অনেক পরিবার ওইসব ভেঙ্গে খেয়ে এ যাত্রায় টিকে গেছে। পরেরবার আর অনেকেই টিকবেনা। সত্যি টিকবেনা।

বক্তৃতা-বিবৃতিসমেত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত কেবল গণরোষ তৈরি করবে। করোনা কমবে না। গুজব প্রতিহত করে মানুষের মনোবল ধরে রাখার উদ্যেগ নিন। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কঠোর হোন। প্রয়োজনে নির্দয় হোন। আইন ও শক্তি প্রয়োগ করেন। দ্রব্যমূল্যে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখুন। খাদ্য আর যোগাযোগ সিন্ডিকেট ভেঙে দেন। বাসভাড়া কমান, উবার-পাঠাও নিয়ে নির্দেশনা প্রত্যাহার করেন। সকল ধরনের সামাজিক- রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধে কঠোর নির্দেশন দেন।’ আরেকটি বাস্তবতার কাহিনী লিখেছেন সোহেল রেহমান। তাঁর লেখনি- ‘আল্লার ওয়াস্তে সবাই একটু সতর্ক হন।

আপনি মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি যদি এইদেশে ওয়েল প্রিভিলাইজড কেউ না হন, আপনার যদি প্রচুর টাকা না থাকে, আপনি যদি খুব ভালো পলেটিক্যাল চ্যানেল মেন্টেইন না করতে পারেন, তবে করোনা আক্রান্ত হলে আপনি জাস্ট ধুঁকে ধুকে মরবেন। আপনার মাথার উপর থাকা স্যাটেলাইট, আপনার ডুবো জাহাজ অথবা আপনার পদ্মাসেতু- আপনার হাই ফ্লো অক্সিজেনের প্রয়োজন মেটাতে পারবে না। আপনার গর্বের আধার হয়ে উঠা ডাউস সাইজের রিজার্ভ আপনাকে একটা আইসিউ ম্যানেজ করে দিতে পারবেনা। আইসিউ খালি থাকলে তবেই না পাওয়ার প্রশ্ন আসে।

খুব ভালো চ্যানেল না থাকলে আপনি এমনকি হসপিটালিগুলোতেও একটা সাধারণ বেড পাবেননা। প্রবল শ্বাসকষ্টের সময়গুলোতে মৃত্যুর সাথে যুজতে যুজতে আপনি উপলব্ধি করবেন- বছরের পর বছর ধরে এইযে ঢাকঢোল পিটিয়ে উন্নয়নের জয়গান গাওয়া হয়েছে সেটা আসলে নিদারুণ মিথ্যা। এই সরকার, তার স্তাবকগোষ্ঠী আপনাকে এক পয়সার মূল্য দিয়েও পুছেনা। আপনি এই হৃদয়হীন মানুষগুলোর কাছে গ্রেফ একটা সংখ্যা। এরা আপনার জন্যে কিছুই করবেনা। তাদের কাছে আপনি না, একজন বিশেষ ব্যক্তির জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠান-ই প্রধান। শতকোটি টাকার আলোকসজ্জায় আমরা নিতান্তই অপাংতেয়।

এই ঠান্ডা পড়া দেশে আপনি শুধু আপনার। আপনাকেই আপনার সেফটি মেন্টেইন করতে হবে- নিজের এবং নিজের পরিবারের স্বার্থে। আমি প্রার্থনা করি আপনাকে যেন আমাদের চিকিৎসাসেবার কদর্য রূপটা দেখতে না হয়।’

এমন ২ টি স্ট্যাটাসের হাত ধরে এগিয়ে যেতে যেতে শুধু বলতে চাই- আমরা অন্ধকারে ঠেলে দেবেন না বাংলাদেশকে। কোন ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থ হাসিলে লকডাউন নামক কষ্ট চাপিয়ে দেবেন না সাধারণ মানুষের কাঁধে।

কেননা, এই দেশের মানুষ এমন কোন উন্নত দেশের নাগরিকের মত নয়; যে উন্নত দেশের মানুষদের আর যাই হোক বা না হোক থাকে জীবন নির্বাহের জন্য নূন্যতম ব্যাংক ব্যালেন্স। যা বাংলাদেশের দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা কোটি কোটি মানুষের নেই। তাই চাই পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, চাই যথাযথ অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রস্তুতি রাষ্ট্রিয়ভাবে, বেসরকারিভাবে…

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102