মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়নি! একেই বলে লালমনিরহাটের দেউতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রভুভক্তি! উমাপতি হরনারায়ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাঞ্জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত, একজন আসামি গ্রেফতার লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ) মহাত্মাগান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়াড পেলেন লালমনিরহাটের তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজ পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে! লালমনিরহাট রেলওয়ে চুক্তিভিত্তিক টিএলআর, নিয়োগে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফিরোজ হারিয়েছে…

রাজারহাটে ধান নয় ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৪২ বার দেখা হয়েছে
রাজারহাটে ধান নয় ঘাস চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

এ.এস লিমন,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)।। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গরুর খামারী বৃদ্ধি হওয়ায়, বেড়েছে গো-খাদ্যের চাহিদা। ফলে বাণিজ্যিকভাবে নেপিয়ার ঘাস চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন স্বাবলম্বী। অল্প সময়ে স্বল্প জমিতে ধানের চেয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করে বেশী লাভবান হচ্ছেন অধিকাংশ কৃষক।

জানা গেছে, আগে রাজারহাট উপজেলায় চারণভূমিতে গরু বেঁধে ঘাস খাওয়ানো হতো। সেই সময়ে কৃষকদের অনেক জমিই পতিত থাকত। বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে নানা প্রযুক্তি আসায় এখন কেউ আর জমি পতিত রাখে না। এমনকি জনসংখ্যা বাড়ায় চারণভূমির পরিমাণও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই আগের মতো গবাদিপশু মাঠে বেঁধে ঘাস খাওয়ানো যায় না। ফলে ঘাস সংকট দেখা দেয়।

এছাড়া গৃহপালিত পশু পালন লাভজনক হওয়ায় রাজারহাটে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই গরু-ছাগল পালন করেন। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলে বেশ কিছু গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এসব গবাদিপশুর ঘাস সংকট নিরসন এবং অর্থকারী হিসেবে ফসলি জমিতে নেপিয়ারসহ বিভিন্ন জাতের ঘাস চাষ করা হচ্ছে।

রাজারহাট উপজেলার দেবীচরণ এলাকার কৃষক মোঃ আলিম মিয়া বলেন, ‘সেচ, সার ও শ্রমিকসহ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ঘাস চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। তবে বছরে ঘাস বিক্রি করা যায় প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গত তিন বছর ধরে ঘাস চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি।

বিচলি(খড়) ও ঘাস পাইকারী বিক্রেতা নুর হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে নেপিয়ার ঘাসের প্রচুর চাহিদা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে বাজারে বিক্রি করা হয় আর খড় আমাদের এলাকায় পাওয়া যায় না এগুলো দিনাজপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে কিনে নিয়ে আসতে হয়। নেপিয়ার ঘাস রাজারহাটে পাওয়া যায়। তাই খড়ের দামের তুলনায় নেপিয়ার ঘাসের দাম কম। তাছাড়া রাজারহাটে গরু খামারী বৃদ্ধি পাওয়ায় খড়ের ও ঘাসের চাহিদা বেড়েছে। তাই প্রতি আঁটি ঘাস ১০ টাকা এবং খড়ের ছোট আঁটি ৫-৭ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

ঘাস ক্রেতা মোঃ আনিছুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলের মানুষদের স্বচ্ছলতার চাবিকাঠি হচ্ছে গৃহপালিত পশু। কিন্তু গবাদিপশুর জন্য এ বছর খড়, চালের কুড়া, ভুসি, খুদ, সরিষার খৈল ও ভুট্টাজাতীয় গো-খাদ্যের পণ্যের দাম খুব বেশী। ওই সব গো-খাদ্যের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের দাম কম এবং খুবই পুষ্টিকর খাবার। এ ঘাস খাওয়ালে অল্প দিনের মধ্যে গরু-ছাগল মোটাতাজা হয় এবং অধিক দুধ পাওয়া যায়। তাই নেপিয়ার ঘাস কিনে গরু ও ছাগলকে খাওয়ানো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ জোবায়দুল কবির বলেন, “মায়ের দুধের যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনি গবাদি প্রাণী পালনে উন্নত জাতের ঘাস চাষের কোনো বিকল্প নেই। ঘাস দুগ্ধ বৃদ্ধিসহ প্রাণীরোগ প্রতিরোধ ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসাবে কাজ করে। সেই সাথে আর্থিক লাভবান তো রয়েছেই।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ সম্পা বেগম জানান, ঘাস চাষ অত্যন্ত লাভজনক। গত বছরের তুলনায় কৃষকরা এ বছর ঘাস চাষে বেশি ঝুঁকেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102