সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৮:২৩ অপরাহ্ন

যৌতুকের না পাওয়ার ভালবাসার মানুষটি উপর নির্যাতন!

আশরাফুল হক ।।
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৩ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ দেয়ায় মনজিলা পারভীন তিন্নি (১৯) নামে এক নববধুকে প্রথম তালাক দিয়েছেন যৌতুক লোভী স্বামী। মনজিলা পারভিন তিন্নি উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী গ্রামের ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বনচৌকী গ্রামের মনিরুজ্জামানের মেয়ে মনজিলা পারভিন তিন্নির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন।

গত ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারী প্রেম পরিনয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রেমিক যুগল। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই বেকার যুবক স্বামী ফরহাদ ও তার পরিবার যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। প্রেম পরিনয়ে বিয়ের কারনে মনজিলার বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনজিলার উপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

গত ১০ আগস্ট যৌতুকের ২ লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য চাপ দিলে নববধূ মনজিলা যেতে অনিহা প্রকাশ করেন। যৌতুক লোভী স্বামীর নির্দেশ না মানায় স্বামী ফরহাদ ও তার বাবা মা মিলে তাকে মারপিট করে ঘরে আটকায়ে রাখে।

পরদিন তাকে জোরপুর্বক বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দাবিকৃত টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেয়। অবশেষে নিরুপায় নববধূ মনজিলা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নববধূ মনজিলা।

এদিকে গরিব বাবা মেয়ের সুখের জন্য যৌতুকের টাকা জোগার করতে জমি বিক্রির ঘোষনা দেন।

এরই মাঝে গত সপ্তাহে হঠাৎ ডাকযোগে আসা চিঠি খুলে মনিরুজ্জামান দেখতে পান চিঠিটি মেয়ের প্রথম তালাকের। মুহুর্তেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয় গরিব বাবা মনিরুজ্জামানের। উপায়ন্তর না পেয়ে থানায় ও স্থানীয়দের স্মরনাপন্ন হন তিনি।

বিষয়টি আপোষ করতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকে বসেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন। বৈঠকে স্বামী ফরহাদ ও শ্বশুর মতিনের পা ধরে কয়েক দিনের সময় চেয়ে কান্না করে জীবন ভিক্ষা চান নববধূ মনজিলা।

কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী শ্বশুরের মন গলেনি। তালাক দিতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তারা। এ সময় নববধূকে দেনমোহর পরিশোধ স্বাপেক্ষে খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত নেন মাতব্বররা। এ খবর শুনে বৈঠকেই সঞ্জাহীন হয়ে পড়েন নববধূ মনজিলা।

বৈঠক অসমাপ্ত রেখে আহত নববধূকে নেয়া হয় আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার। জ্ঞান ফিরে এলেই স্বামীর বাড়ি যেতে ডুকরে কান্না করছেন নববধূ।

হাসপাতালের বেডে নববধূ মনজিলা পারভিন তিন্নি বলেন, স্বামী ও শ্বশুরের পা ধরে কান্না করেছি একটু সময় চেয়েছি। তারা শুনেনি। আপোষে স্বাক্ষর নেয়ার কথা বলে খোলা তালাকের ঘোষনা দিয়েছে। তালাক দিলে আমি আত্নহত্যা করবো। এর দায় স্বামী ও শ্বশুরকে নিতে হবে।

অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকে খোলা তালাক হয়েছে। তবে কোন নিকাহ রেজিস্টার খোলা তালাক কার্যকর করেছেন তার নাম পরিচয় তিনি দিতে পারেননি।

ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে আপোষের জন্য বসেছিলাম। মেয়ে সংসার করার জন্য স্বামী ও শ্বশুরের কাছে প্রথম বারের মত ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু স্বামী কোন ভাবেই সংসার করবে না। তাই বৈঠকে উপস্থিত উভয় পক্ষের লোকজন দেনমোহরানার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ স্বাপেক্ষে খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয়নি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বৈঠকের খবর শুনেছি। তবে বিস্তারীত জানি না। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102