সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই” বেতন বৈষম্য নিরসনে লালমনিরহাটে মানববন্ধন সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের মরদেহে ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি লালমনিরহাটে ক্যাবে’র মতবিনিময় সভা লালমনিরহাটে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী লালমনিরহাটের প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ আমবাড়ীতে শ্রমিক লীগের আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন নভেম্বরে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে লালমনিরহাটে রক্তদান কর্মসূচী ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নির্দেশ শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক : রাষ্ট্রপতি

মিথ্যা-ভুয়া সংবাদ আল জাজিরার

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৩ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

# আল জাজিরা আমাদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করেছে: বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। # সামরিক বাহিনীকে উস্কানোর পাঁয়তারা করছে আল জাজিরা: মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ। # আল জাজিরার রিপোর্টে অর্থ জোগান দিয়েছে তারেক জিয়া: অধ্যাপক আবুল হাশেম।

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। আল জাজিরা সেই প্রোগ্রামে যে সকল ভাষ্যকর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার কোন প্রমাণ নেই সে সকল কথা সেখানে হাই লাইট করা হয়েছে। সেই রিপোর্টটিকে আবার বাংলায় রুপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে তথ্যের সংমিশ্রণ করে এটা আরও ছড়ানো হচ্ছে। এখানে আরও দেখা যাচ্ছে নানান জায়গা থেকে কিছু কুচক্রীর বসে এটাকে আরও যোজন বিয়োজন করে তথ্যের বিকৃত করে সামরিক বাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছে। আল জাজিরা আসলে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এটাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। আল জাজিরার ভিত্তি মিথ্যা-ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করা।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৪১তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। শুক্রবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) এর সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাশেম। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, প্রথমেই আমি আমার বক্তব্যের শুরুতে শ্রদ্ধা জানাতে চাচ্ছি আমাদের জাতির স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, জাতীয় ৪ নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, আরও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ভাষার মাসে নিহত শহীদদের প্রতি। বাংলাদেশ আজ শুধু আর্থিক উন্নয়ন নয়, ইকোনমিস্টের একটি জরিপে বলা হয়েছে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের সূচকে আরও চার ধাপ উপরে চলে গিয়েছে। অথচ সারা পৃথিবীতে অন্যান্য দেশগুলো গণতন্ত্রের সূচকে নিচে নেমে গিয়েছে। এইগুলোতো আর এমনি এমনি হয়না, এর পিছনে আছে আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ প্রেম, অধ্যবসায়, প্রজ্ঞা এবং সবথেকে বড় কথা তার যে দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতির কারণেই কিন্তু আমরা এসব করতে পারছি। কিন্তু একই সময়ে আমার দেশের বিদ্যমান শত্রুরা যারা একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বাঙলার স্বাধীনতা চাননি তারা এখনো তৎপর আছে। আজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে ভিডিও প্রকাশ করেছে সেখানে কিন্তু সেই একাত্তরের রাজাকার এবং সেই গোলাম আযমের ছেলের কথা উল্লেখ করে বার বার কিন্তু একটি কথা উচ্চারণ করা হয়েছে সেই একাত্তরের প্রেতাত্মারা আজকের এই সকল ষড়যন্ত্রের মূলে রয়েছে। আমাদের সামরিক বাহিনীতে যে সকল কুচক্রীরা ছিল তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বর্তমানে একটি পবিত্র সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়েছে যা আমাদের দেশের প্রতি দেশের মানুষের প্রতি অবিচল। এখানে আর কোন পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা নেই। সেখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান ইসরায়েলে সাথে বাণিজ্য করছে। এটা অনেকেই জানেন না। কিন্তু এটাই চরম সত্য কথা। মুখে মুখে মুসলিম উম্মাহর কথা বলে কিন্তু ঠিকই তারা ইসরায়েলের সাথে বাণিজ্য চলমান রেখেছে। এখন মূল কথায় আসি। আল জাজিরা কিছু দিন আগে যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে এটা সম্পূর্ণ আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করেছে। একটি দেশের সামরিকবাহিনীর উপর যখন আঘাত করা হয় তখন কিন্তু সেই দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করা হয়। এই আল জাজিরা একাত্তরে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারকাজ বিঘ্ন করার জন্য কম অপচেষ্টা চালায়নি। নিজামী-গোলাম আযম-কাদের মোল্লাদের মতো নিষ্ঠুর ঘাতক ও ধর্ষকরা তাদের কাছে ‘ইসলামি চিন্তাবিদ ও সরকারবিরোধী নেতা’। সেই প্রোগ্রামে যে সকল ভাষ্যকর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার কোন প্রমাণ নেই সেসকল কথা সেখানে হাই লাইট করা হয়েছে। এই আল জাজিরা বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষের লেখকদের নাস্তিক বলে তাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের কাজেও সক্রিয় ছিল। এই ষড়যন্ত্রের পিছনে যারা জড়িত আছে তাদের প্রতি আমাদের আরও কঠোর হতে হবে এবং কঠিন সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।

মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, আল জাজিরা যে রিপোর্ট করলো সেটার মধ্যে আমি মূলত কোন বস্তুনিষ্ঠতা খুঁজে পাইনি, যা পেয়েছি তা হলও একটি পলিটিকাল অভিযান। এখানে আমরা দেখেছি তারা এটা কেন করলো। সরকারের সাথে সামরিক বাহিনীর সাথে জড়িয়ে সরকারকে ফেলে দেওয়াসহ নানা ধরণের উস্কানিমূলক কথা বলা হয়েছে সেই রিপোর্টে। বাংলাদেশ নিয়ে আল জাজিরা যে রিপোর্টটি করেছে সেটা স্বভাবতই আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বাইরে। আপনি আরেক দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য সেই দেশের রাজনীতিতে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে ওই দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, সে কারণে আমরা বলতে পারি এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র যার মধ্যে কোন বস্তুনিষ্ঠতা নেই। এটা বস্তুত সিনেমা ছাড়া আর কিছু নয়। সিনেমার প্রয়োজনে এমন দৃশ্যপট, সেট সাজানো হয়। আল জাজিরাও তাদের সর্বশেষ সিনেমা তৈরিতে এমন দৃশ্যপট সাজিয়েছে যেখানে কিছুক্ষণ পর পর একটা একটা কিছু মেকি ভিডিও ফুটেজ লাগানো হয়েছে। ফটোশপের কারসাজি করে এখানে সত্য মিথ্যার সংমিশ্রণ করে বাংলাদেশের মানুষকে বোঝাতে চেয়েছে বাংলাদেশের দুরবস্থা নিয়ে। এই আল জাজিরার রিপোর্টটিকে আবার বাংলায় রুপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে তথ্যের সংমিশ্রণ করে এটা আরও ছড়ানো হচ্ছে। এখানে আরও দেখা যাচ্ছে নানান জায়গা থেকে কিছু কুচক্রীর বসে এটাকে আরও যোজন বিয়োজন করে তথ্যের বিকৃত করে সামরিক বাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ গুজব প্রচারকারী চক্রের হোতারা তাদের কাজ ঠিকই করে যাচ্ছেন কিন্তু এতে যে দেশের ক্ষতি হচ্ছে তা কিন্তু সাধারণ মানুষরা সহজেই বুঝতে পারছেন না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার। তাদের সংবাদ পরিবেশনায় বর্তমান সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক খবর সবসময় স্থান পায়। তবে বিশ্বব্যাপী অনেক আগে থেকে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে এই চ্যানেলটি পক্ষপাতমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত। আল জাজিরা আসলে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এটাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। এরা কোন একটি গোষ্ঠীর ধাঁরা পরিচালিত। এই গোষ্ঠীটা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র যারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এটাকে থামানোর জন্য তারা যেভাবেই হোক দেশে একটা গণ্ডগোল বোঝাতে চাচ্ছে।

অধ্যাপক আবুল হাশেম বলেন, আল জাজিরার রিপোর্টটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট যেখানে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সিনেমা সাজানো হয়েছে। এখানে বেশ আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বটে তা না হলে এই ধরণের ষড়যন্ত্র করা এবং আল জাজিরাতে প্রকাশ করা এত সহজ নয়। এর অর্থ জোগান কে করেছে এটা একেবারেই পরিষ্কার, এটা করেছে তারেক জিয়া এবং জামায়াতের কোন নেতা যার নাম আমি জানি না, কিন্তু এটা একেবারেই পরিষ্কার বিষয়। এর উদ্দেশ্য আরও পরিষ্কার। এর উদ্দেশ্য হলো, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেভাবে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত হচ্ছে সেখানে তাকে সহ বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করা। যাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও না বাড়ে, বাংলাদেশ যাতে পৃথিবীর বুকে আরও পরিচিত হতে না পারে সেটাই হচ্ছে এই রিপোর্টের মূল উদ্দেশ্য। আরেকটি উদ্দেশ্য আমি দেখেছি যেটা হলো, জেনারেল আজিজ সাহেবের সাথে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা এবং সেনাবাহিনীর সাথে সরকারের একটা বিরোধ সৃষ্টি করা যাতে কোনভাবে এই সরকারের পতন ঘটানো যায়। জামায়াত-বিএনপি মিলে বাংলাদেশে একটি অরাজকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায় তারা। বিএনপি বাংলাদেশে গত ১২ বছর ধরে জামায়াত দিয়ে, হেফাজত ইসলাম দিয়ে, অন্যান্য সংগঠন দিয়ে নানাভাবে এই ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তারা কোনবারই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তাই তারা এবার আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারা করছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে শক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাইনা তাদের সাথে এই ডেভিড বার্গম্যান, তাসনিম খলিল সহ আরও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীরা এই আল জাজিরা রিপোর্টের মূল চক্রান্তকারী।

(তথ্য ও সুত্র : ভোরেরপাতা)

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102