রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

মাধবপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ধৈঞ্চা ও হারাচ্ছে মাটির উর্বরতা

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ১১০ বার দেখা হয়েছে
হারিয়ে যাচ্ছে ধৈঞ্চা

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ ।। হবিগঞ্জের মাধবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা প্রায়ই ধৈঞ্চা চাষ করতে থাকত। এখন কালের বিবর্তনে এসব চাষ হচ্ছে না। এক সময় জমির সাধারণ ফসল ছিল ধৈঞ্চার চাষ। জমির প্রাণ ফেরাতে কৃষকরা নিয়মিত সবুজ (জৈব) সার হিসাবে ব্যবহার করতেন ধৈঞ্চা। কিন্তু কালের প্রভাবে জমিতে হাইব্রিড ফসল আর রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় প্রায় উঠেই যাচ্ছে ধৈঞ্চার চাষ।

এরফলে ক্রমশ মাটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক প্রাণশক্তি। এভাবে চলতে থাকলে মাটি হারিয়ে ফেলবে তার স্বাভাবিক উর্বরা শক্তি। বাড়বে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে চাষবাসের খরচ! ধৈঞ্চার চাষের অতিতের স্মৃতি প্রান্তিক কৃষকদের ভাষায়, আগের আমলের বাপ দাদারা ফি বছর একবার ধৈঞ্চার চাষ করতেনই। মোটামুটি একমাসের মধ্যেই সবুজ চারায় ছেয়ে যেত ফসলের মাঠ। কি সুন্দর ছিল নরম ও সবুজ ধৈঞ্চার ক্ষেত।

তিনি আরো বলেন, জমি থেকে ধৈঞ্চা কেটে পুরো জমিতেই ছিটিয়ে লাঙল চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হত। সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ধৈঞ্চা পচে মাটির সাথে মিশে যেত। মিটে যেত জৈব সারের চাহিদা। এরপর ওই জমিতে ফসল ফলতো বেশুমার প্রচুর। কিন্তু এখন কি যে দিনকাল পড়লো; জমিতে সবুজ সার ও গোবর সারের পাউশ দেওয়া (ব্যবহার) বন্ধ হয়ে গেল। মাধবপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন হাছান বলেন, ধৈঞ্চার ব্যবহার এখন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা এখনও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে গোবরের পাউশ ও ধৈঞ্চার ব্যবহার করছেন। এর ফলে ওই এলাকার উৎপাদিত মশুর, খেসারি প্রভৃতি ডাল, গাইঞ্জা জাতীয় ধান, কাউন, মরিচ, বাদাম প্রভৃতির মান ও স্বাদ একটু ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধৈঞ্চার মত প্রাকৃতিক সবুজ সারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের নিয়মিত রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বুঝানো হচ্ছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে গবেষণা করে দেখা গেছে, কৃষক পর্যায়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলে মাটিতে ফসলের জন্য উপকারি পোকা মাকড়, কেঁচো প্রভৃতির বংশ বিস্তার হবে। এরফলে জমিতে উৎপন্ন বিভিন্ন ফল ও ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে। আর কৃষকদের সাথে সাথে উপকৃত হবেন ভোক্তারাও।

মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আলা উদ্দিন আল রনি বলেন, আগের কৃষকরা জমির উর্বরতা রক্ষার্থে ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ধৈঞ্চার চাষ করে থাকত। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধৈঞ্চার ব্যবহার হচ্ছে না।

যেমন- হাতের নাগালে পাওয়া যায় এলপি গ্যাস এবং কৃষকরা এখন ধৈঞ্চার পরিবর্তে বোরো, আউশ, আমন ধান চাষে মনোনিবেশ করছে। ধৈঞ্চা চাষ করলে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হতো না তেমনি রাসায়নিক সারও ব্যবহার করতে হতো না। এখন রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে জমির উর্বরতা হারাচ্ছে দিন দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102