সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই” বেতন বৈষম্য নিরসনে লালমনিরহাটে মানববন্ধন সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের মরদেহে ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি লালমনিরহাটে ক্যাবে’র মতবিনিময় সভা লালমনিরহাটে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী লালমনিরহাটের প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ আমবাড়ীতে শ্রমিক লীগের আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন নভেম্বরে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে লালমনিরহাটে রক্তদান কর্মসূচী ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নির্দেশ শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক : রাষ্ট্রপতি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো খবর নেই!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৬২ বার দেখা হয়েছে
ছবি : প্রতীকী

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো খবর নেই। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ তৎপরতা চোখে পড়লেও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক ময়দানে জোটটির সক্রিয়তা চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন এ জোট মূলত রাজনৈতিক হতাশায় নিমজ্জিত। বিএনপি নিজেও রাজনৈতিভাবে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলটির অভ্যন্তরেও দেখা দিয়েছে হতাশা, অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলা। ফলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজছে দলটি। এ বাস্তবতায় জোট নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় ও সামর্থ্য তাদের নেই। ফলে ২০ দলীয় জোট আপাতত বিএনপির আগ্রহ ও প্রাধান্যের বাইরে রয়েছে। এতেই জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রীয় থাকলেও করোনা মহামারির আগে অনলাইন ও সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের সক্রিয়তা লক্ষ করা গেছে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়েছে এই জোট। বিশেষ করে গত নির্বাচনে ভোটকে সামনে রেখে জোটের যে রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভোট শেষ ২০-দলীয় জোটও শেষ। বর্তমানে জোটটি বেঁচে আছে কেবলই সংবাদপত্রের পাতায়। মাঠে নেই তাদের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম। করোনো মহামারি মোকাবিলায় জোটের নেতারা সরকারের সমালোচনায় মুখর থাকলেও নিজেদের দল ও জোটের পক্ষে তেমন কোনো কর্মসূচিই নিতে দেখা যায়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জোট টিকিয়ে রাখার বিষয়ে জোটের নেতাদের মধ্যে কোনো তৎপরতা নেই।

এদিকে জোটের বৃহত্তম শরিক বিএনপি এখন একলা চলো নীতিতে এগোচ্ছে। বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০-দলীয় জোট এখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রায় সাড়ে তিনবছর ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা দলের শীর্ষ নেতার পদে আছেন তারেক রহমান। কিন্তু দলের বড় একটি অংশে তারেক রহমানের একক কর্তৃত্ব এবং অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে। বিদেশি একাধিক মহলেও তাকে নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে আলোচনা আছে। দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ মহলে তারেক রহমানের ব্যাপারে অগ্রহণযোগ্যতা কাটেনি। ফলে ক্ষমতার রাজনীতিতে বিএনপি আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। ফলে তৃণমূলসহ দলের সর্বত্রই দেখা দিয়েছে হতাশা। জোটের মধ্যে নিবন্ধিত দল মাত্র ছয়টি, বাকি ১৪টি অনিবন্ধিত। অধিকাংশ দল চলছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সাইনবোর্ড সর্বস্ব। দৃশ্যত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো অস্তিত্বই নেই। আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা মাঠের রাজনীতিতে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেখা যায় না। যে যার মতো চলছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনেও জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয়নি তারা। মতবিরোধের কারণে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গেও ভোটের মাঠে দেখা যায়নি শরিক দলের নেতাদের। বলা যেতে পারে তাদের ভেতরে ক্লান্তি ভর করায় সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। করোনা মহামারিতে নেই জোটবদ্ধ কার্যক্রম। এমনকি সাধারণ মানুষের পাশেও নেই জোটটি।

এদিকে বিএনপির মতোই অনেকটা ‘একলা চলো নীতি’ তে চলছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট, অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট এলায়েন্সের (বিএনএ)। বলা যেতে পারে ছোট ছোট জোটগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত। যদিও বামপন্থি রাজনৈতিক আদর্শেও পতাকাবাহী আটটি রাজনৈতিক দলের জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম জোট’ রাজপথে অনেকটাই সক্রিয়। এছাড়া অন্যান্য ছোট দলগুলো এখন বিলীনের পথে। মূলত জোটের আত্মপ্রকাশের মৌসুম হচ্ছে নির্বাচনকালীন সময়। তখন বিভিন্ন ছোট ছোট প্যাড সর্বস্ব রাজনৈতিক দলগুলো হালুয়া-রুটির খোঁজে বড় দলের সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা করে। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে আসন ভাগাভাগিতে নিজেদের দাবিকে জোরালো করতেই জোট তৈরি একটি পুরাতন কৌশল।

চলতি বছরের ১৪ জুলাই ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক প্রাচীন ধর্মীয় সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (জমিয়ত)। পুরানা পল্টনে সংগঠনটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি বিএনপির অনাস্থা ও জোটের শরিক দল হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন না করাসহ কয়েকটি অভিযোগ করেন জমিয়ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। আজ থেকে জোটের কোনো কার্যক্রমে জমিয়ত থাকবে না। কারণ হিসেবে তিনি সে সময় বলেছেন, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করে ইউপি নির্বাচন এককভাবে বর্জন করা, আলেমদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ না করা, প্রয়াত জমিয়ত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়া। যা জোটের রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

২০ দলীয় জোট সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লেবার পার্টি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচি পালন করলেও বাকি দলের কোনো তৎপরতা নেই। জোটের একটি সূত্র জানায়, অধিকাংশ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি থাকলেও নেই জেলা কমিটি। কয়েকটি আবার এক ব্যক্তির এক দল নামেও পরিচিত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এ কথা স্বীকার করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘জোট নিয়ে এখন আমাদের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। এমনকি স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকেও এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা এখন দল (বিএনপি) নিয়ে কাজ করছি। নিজেদের দল গোছাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বছরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দু-একটি বৈঠক ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই এই জোটের। তাও গত দুই বছরে কোনো বৈঠকে জোটের শীর্ষ বা মহাসচিব পর্যায়ের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান মাঝেমধ্যে তাদের নিয়ে একটু আধটু চা-চক্রের আয়োজন করেন। এরমধ্যেই কিছুদিন আগে জোট ছেড়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ। তারও আগে বিদায় নিয়েছে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমানের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। ইসলামী ঐক্যজোট, বিকল্পধারা, এনপিপিসহ আরও কয়েকটি সংগঠন এর আগে ২০ দল ছেড়ে গেলেও একই নামে খ-িত বা আংশিকভাবে সংগঠনগুলো নামেমাত্র ধরে রাখা হয়েছে এই জোটে।

২০ দলের অন্যতম শরিক দল এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, জোটের এখন কোনো কার্যক্রম নেই। বিভিন্ন কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু সমস্যা রয়েছে। ফলে ২০ দলীয় ঐক্যজোট সক্রিয় হচ্ছে না। বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তারা একটি আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে ২০ দলীয় জোট গঠন করেছিল। এখানে অনেকগুলো দল আছে যাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। কতদূও তাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে, কতদূও সফলতা আসবে এটা বলা খুব কঠিন। কর্ণেল অলির মতে, চালকের আসনে থাকা বিএনপিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আরেক শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, জোটের ভেতরে বেশকিছু দল আছে যাদের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল, নেতৃত্বেও অবস্থা খুবই খারাপ। সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা। যোগাযোগই বন্ধ করে দিচ্ছে একে অপরের সঙ্গে। সবচেয়ে বেশি তুঙ্গে জামায়াত-বিএনপির টানাপোড়েন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান, গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ ২০-দলীয় জোটের একবার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। বিএনপি এই জোটের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী দল। তাদেরই জোট চাঙা করার ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা জোটগত রাজনীতি চালু রাখার ক্ষেত্রেও বিএনপিকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। উল্লেখ, ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করেছিল বিএনপি। পরে এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয়পার্টি বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) জোটে থেকে যায়। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ দলীয় জোটে। এরপর পরিধি বেড়ে ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়। যদিও মানে সঙ্কর হিসাবে জোটটিতে কুড়িটি দল আছে এমন কোন পরিসংখ্যান দেওয়া একেবারেই অসম্ভব। তার উপর জোট থেকে ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপি, ন্যাপ ও এনডিপিরও আন্দালিব রহমান পার্থর দল বিজেপিও বেরিয়ে যাওয়ায় কার্যত দলের সংখ্যা কত সেটিই এখন প্রশ্ন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102