সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

বাবা বিদ্যালয়ে সভাপতি ছেলে একাধিক মামলার আসামী তবুও জাল সার্টিফিকেট ওই বিদ্যালয়ে দুই ছেলের চাকরি!

আসাদুল ইসলাম সবুজ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১০৪ বার দেখা হয়েছে

একেই বলে সভাপতির দাপট, ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ, ক’দিন বাকী থাকতে ক্ষমতা দেখিয়ে এক বিদ্যালয়ে ভুয়া সার্টিফিকেটে একাধিক মামলার আসামী দুই ছেলের চাকরি দেয়া হয়েছে। ফলে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আর এ ঘটনাটি ঘটেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের দেউতিরহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে।

সম্প্রতি সময় ওই বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পদে পরপর তিনটি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তারমধ্যে নৈশপ্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন আয়া (মহিলা)। তিনটি পদে দু’টিতে (২ পদে) নিয়োগ পেলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজার রহমানের দুই ছেলে।

অভিযোগ উঠেছে, সভাপতির দুই ছেলের সার্টিফিকেট ভুয়া। তাছাড়া তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আর এর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত প্রধান শিক্ষক হিরালাল রায়।

অনুসন্ধানচালিয়ে জানা গেছে, সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজার রহমানের দুই ছেলের মধ্যে প্রথমে সুলতান মণ্ডলকে ( নৈশপ্রহরী) ও পরে শাহাজাহান মন্ডলকে (নিরাপত্তাকর্মী) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

উক্ত সুলতান মন্ডল ও শাহাজাহান মন্ডল কখনই ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। অথচ ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ৮ম শ্রেণির পাশ সার্টিফিকেট জাল করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক হিরালাল রায় তাকে নিয়োগ দেন।

নৈশপ্রহরী পদে সুলতান মন্ডল এসএসসি পাস করলেও সভাপতির ছেলে হওয়ায় ৮ শ্রেণি পাশে নিয়োগ পান। উক্ত সুলতান মন্ডলের নামে ৩টি মামলা রয়েছে লালমনিরহাট সদর থানায়। এর মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ২টি (যাহার মামলা নং- ৪৫, তারিখ: ১২-০৪-২০১৪ইং, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩০৭/৩২৬/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪) ও (যাহার মামলা নং- ১৩, তারিখ: ০৭-০২-২০১৬ইং, ধারা- নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী) ২০০৩ এর ৭/৩০ এবং তদন্তাধীন রয়েছে ১টি (যাহার মামলা নং- ৩১, তারিখ: ০৮-০৭-২০২০ইং, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৪২৭/৩৮০/৫০৬/১১৪/৩৪) বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে শাহাজাহান মন্ডলকে (নিরাপত্তাকর্মী) পদে নিয়োগ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে এলাকায়। নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় লকডাউন কার্যকর করেন। চলতি বছরের সর্বশেষ লকডাউন ১০ আগষ্ট পর্যন্ত ছিল। এ লকডাউনে সমস্ত অফিস আদালত বন্ধ ছিল। আর যদি শিক্ষা খাতের কথা বলি, তা তো খোলার কোন নাম গন্ধই নেই। তারমধ্যেও তারাহুরা করে দেয়া হয়েছে ১৪ জুলাই নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের।

কারণ নিরাপত্তাকর্মী পদে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমান তার ছেলে শাজাহানকে এবং প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আয়া পদে সুমি বেগমকে নিয়োগ দিবেন। কিন্তু ২৪ আগষ্ট সভাপতি আজিজার রহমানের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ছিল। শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুয়ায়ী ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ১ মাসের কম হলে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে আর ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন করা যাবে না।

ফলে তড়িগড়ি করে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমান তার ছেলে শাজাহানকে এবং প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আয়া পদে সুমি বেগমকে নিয়োগ করেন।

নিরাপত্তাকর্মী পদে শাজাহান মন্ডল ও আয়া পদে সুমি জে.এস.সি ও জে.ডি.সি পাশ করেননি।

প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় টাকার বিনিময় সুকৌশলে সার্টিফিকেট তৈরি করেছেন। যা ওই সার্টিফিকেট সুত্র ধরে নিচের ক্লাসগুলো তদন্ত করলে প্রমাণ মিলবে যে, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কি পরিমাণ অনিয়ম করেছেন।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজার রহমান বলেন, নিয়োগের ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে পারবেন না। যা জানার দরকার তার উত্তর প্রধান শিক্ষক দেবেন।

লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের অভিযোগ পেয়েছি। তা তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।
আর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির সার্টিফিকেট জাল এবং তার নামে একাধিক মামলার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে তদন্ত রিপোর্ট এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102