বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে আছে : ইউরোপে স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা নেই : তথ্যমন্ত্রী

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১১৪ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। ইউরোপে স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা না থাকলেও বাংলাদেশে আছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ নানা ধরনের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ইউরোপে স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা নাই। যদি কোনো স্ত্রীকে স্বামী ডিভোর্স দেয়, কোনো ভাতা পায় না। কিন্তু বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা চালু করেছেন।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজ ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নানা ধরনের ভাতা পাচ্ছে। এই করোনাকালে কেউ আশা করেনি মোবাইল ফোনে টাকা পাবে। কিন্তু টাকা চলে গেছে। আমাদের আশপাশে শ্রীলংকা, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান- কোনো দেশে এই সহায়তা দেয়া হয়নি।

এই দুর্যোগ মহামারিকে বাংলাদেশ সংকট মোকাবিলায় নিজেকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার শুরুতে যারা শঙ্কা প্রকাশ করেছিল, পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছিল টেলিভিশনের পর্দা গরম করেছিল যে, হাজার হাজার লাশ পড়ে থাকবে, অনাহারে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে, তাদের সেই শঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে শেখ হাসিনা সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ করোনা মহামারিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ উপমহাদেশে তৃতীয় এবং বিশ্বে ২০তম। বিশ্বের অন্য দেশের মতো আমরা নিজেদের করোনা থেকে রক্ষা করতে পারিনি। কিন্তু এখানে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়েছে তা পৃথিবীর সামনে দৃষ্টান্ত। বিএনপি ও তার মিত্রতা এবং রাত ১২টার পরে যারা টেলিভিশন গরম করে, তারা এটা স্বীকার না করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মাত্র ২০ দেশে করোনাকালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পজিটিভি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে গায়ানা আর সাউথ সুদান। দেশ দুটির জনসংখ্যা অনেক কম, অর্থনীতি অনেক ছোট। সেই তুলনায় বাংলাদেশকে বলতে হবে করোনা মহামারির মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এক নম্বরে রয়েছে। সরকার ৭ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। এই করোনা মহামারির মধ্যে নয়াপল্টনের অফিসে বসে অনেকে বড় বড় কথা বলেন। তারা এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এক তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, আবার তারা সুস্থ হয়ে মানুষের জন্য কাজে নেমে পড়েছেন।

সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষকে আশান্বিত করেছেন। মানুষ শুধু আশান্বিতই হননি, আলোকিত হয়েছেন। গ্রামে আজ কুড়েঘর নেই, পণ্যকুটির খুঁজে পাওয়া যায় না। কবিতায় কুড়েঘর আছে বাস্তবে নেই। কুড়েঘর এখন পাকা ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শুধু দেশকে এগিয়ে নিতে চান না, দেশের নতুন প্রজন্মকে মেধায় সমৃদ্ধ করে এগিয়ে নিতে চান। শুধু বস্তুগত উন্নতি নয়, নতুন প্রজন্মের আত্মিক উন্নতিও তিনি ঘটাতে চান। এখন দেশে উন্নয়ন অর্জনে একটি নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মধ্যযুগে বাংলাদেশ ধনী দেশ ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা ধনী ছিলাম বলেই এখানে বর্গীরা এসেছিল, ওলন্দাজরা এসেছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দৃশ্যপট আবার উল্টে দিতে চাই। আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ আবারও উন্নত ও ধনী দেশে রূপান্তরিত হবো। আমরা একটি মানিবক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করতে চাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102