মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে প্রস্তুত প্যারেড গ্রাউন্ড

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
  • ৭৪ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এসব অনুষ্ঠান ।

১০ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ১৭, ২২ এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং ১৭, ১৯, ২২, ২৪ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানগণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্, ১৯ মার্চের অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চের অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ২৪ মার্চের অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানসহ দশ দিনের অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য প্রদর্শন করা হবে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানমালা ইলেক্ট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে নানান শৈল্পিকতায়। অনুষ্ঠানস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে— শহীদ মিনার, পদ্মা সেতু, গ্রামীণ জীবন যাপনের আবহ, জাতীয় মাছ ইলিশসহ নানা দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ মার্চ বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। আলোচনা ছাড়াও থাকছে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এজন্যই নিজেদের ঝালাই করে নিতে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দিনব্যাপী মঞ্চে চলে শেষ মুহূর্তের রিহার্সেল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হবে প্রতিটি পরিবেশনায়। গান নাচ অভিনয়সহ নানাভাবে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবন। বঙ্গবন্ধু একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতা ছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে জন্মশতবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান পালন করবে সরকার। ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা ভার্চুয়ালি ও সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। তবে চলমান করোনা মহামারি বিবেচনায় অতিথি আমন্ত্রণ সীমিত করা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য ৫০০ করে অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবাইকে করোনা পরীক্ষা করে অনুষ্ঠান স্থলে ঢুকতে হবে।

এ বিষয়ে উদযাপন কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর বুধবার (১৬ মার্চ) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধু আবেগের একটি স্থল, সেই আবেগকে ধারণ করেই এসব ধরনের কাজকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলোর শুরুতে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরবর্তীতে সশরীরে উপস্থিতি রেখে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ জীবন সংগ্রাম পার করে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহসিকতায় আপসহীন নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সব খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হবে এসব অনুষ্ঠানে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গণমানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টিও দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। দেশ স্বাধীন হয়েছে, উন্নয়নের দিকে গিয়েছে, দেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি অবস্থায় নেই।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক কামাল আবু নাসের চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময় বাড়ানো হয়েছে।’ এই সময় বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে অনেক কাজ ব্যাহত হয়েছে। বাড়তি সময় পাওয়ায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। চিরন্তন আলোকশিখা প্রতিপাদ্য নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর নানা আয়োজন। বাংলাদেশ স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর তর্জনী দিয়ে যে বজ্রধ্বনি করেছিলেন, তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি আপামর জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’ নতুন প্রজন্মও তার তর্জনীর অনুপ্রেরণা পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন ভিন্নমাত্রায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ধরনের এমন আয়োজন আগে কখনও হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নযাত্রার ভালোবাসার অগ্রগতির মেলবন্ধন। ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পিতা দিয়েছেন কন্যা দিয়েছেন আবাসস্থল। বছরব্যাপী ২৯৮ অনুষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি করোনার কারণে।’

উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিন ১৭ মার্চ বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হবে অনুষ্ঠান। পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হবে। মুজিব চিরন্তন থিমের ওপর একটি এনিমেশন চিত্র প্রদর্শিত হবে। থিম সং-এর মিউজিক ভিডিও প্রদর্শিত হবে। স্বাগত ভাষণ রাখবেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভিডিওবার্তা প্রদর্শিত হবে। উপস্থিত থেকে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ। অতিথিদের কাছে স্মারক হস্তান্তর করা হবে মুজিব চিরন্তনের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ছয়টার পর বাংলাদেশ এবং ভারতীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ভারতীয় শিল্পী মমতা শংকর ও তার স্বামী চন্দ্রোদয় ঘোষ নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তারা। বাংলাদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, বন্ধন সুদৃঢ় রয়েছে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করবে জানান এই শিল্পী দম্পতি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102