রবিবার, ২২ মে ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ শ্বশুর বাড়ির পাশে জামাতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকরা বীমার মেয়াদপূর্তির এক বছেরও টাকা পাচ্ছে না

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭৩ বার দেখা হয়েছে
ছবি : প্রতীকী

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ ইসলামী শরী 'আহ্ মোতাবেক ও বীমা আইন মোতাবেক পরিচালিত ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ। এ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লালমনিরহাট জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বীমার মেয়াদপূর্তির টাকা নিয়ে টালবাহনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে শতশত গ্রাহক তাদের বীমার পাওনা টাকা না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছে।

জানা যায়, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ-এর কোম্পানীর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় দুটি শাখার পৃথক হিসাবের মাধ্যমে। একটি হল মুদারাবা আর অপরচি হল তাবাররু। লাভ ক্ষতির ভিত্তিতে গ্রহন করা প্রিমিয়ামের টাকা দ্বারা মুদারাবা এবং কণ্যান তহবিল দ্বারা তাবররু শাখা পরিচালনা করা হয়। ইসলামী শরী ‘আহ্ মোতাবেক ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পলিসি হোল্ডারদের এবং শেয়ার হোল্ডারদের যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানী। ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর লালমনিরহাটের শতশত গ্রাহক তাদের বীমা পলিসির পাওনা টাকা না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন।

একটি বিশ্বাস্থ্য সূত্র জানান, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ সারাদেশের ন্যায় কয়েক বছর আগে লালমনিরহাটেও জোনাল অফিস দিয়ে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমান লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী রোডস্থ শাহান শপিং কমপ্লেক্স ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ কার্যক্রম চলছে। এখানে জোনাল অফিসের সাইনবোর্ড থাকলেও কয়েক মাস ধরে আর অফিসের সেই সাইনবোর্ডটি চোখে পড়ছে না। এ ইন্সুরেন্সের কার্যক্রমে জেলার শতশত গ্রাহক তাদের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে সদস্য হয়ে পলিসি করতে থাকেন।

নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদ বীমার করার বিধান ছিল। সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে শতশত গ্রাহকের বীমা পলিসির মেয়াদ শেষও হয়েছে কারও এক বছর আবার কারও ৬ মাস আগে। সে অনুযায়ী গ্রাহকরা তাদের বীমার টাকা পাওয়ার কথা ছিল যথাসময়ে। কিন্তু গ্রাহকের বীমার পলিসির মেয়াদপূর্তির দীঘদিনেও পাচ্ছেন না টাকা। ফলে প্রতিদিনে শতশত গ্রাহকের বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অফিসের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে টালবাহনাই করছেন।

লালমনিরহাট শহরের সুরকিমিল কলোনী এলাকার সামছুল হক মাষ্টারের কন্যা শিরিন সুলতানা স্কুলশিক্ষিকা জানান, আমাদের পলিসি করার সময় বলা হয়েছিল মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আপনাদের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টোটা। বীমার মেয়াদপূর্তির টাকা দুরের কথা গ্রাহকরা অফিসে গেলে কর্মকর্তারা দুরদুর করে তারিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়তই অসংখ্যক গ্রাহক ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর লালমনিরহাট জোনাল অফিস ভীড় করছেন।

এদিকে শাহাবুল নামের এক ব্যক্তি ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ বীমা করে বীমার পলিসি দীঘদিন চালিয়ে মারা গেলেও তার বীমার পাওনা টাকা অধ্যাবদি তার পরিবারকে দেয়া হয়নি।

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর গ্রাহক হোসনে আরা বেগম ও তার স্বামী সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান বলেন, অসংখ্য গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে দীর্ঘদিন আগেই। তারা তাদের পাওনাকৃত টাকা নেয়ার জন্য অফিসে গেলে ওই অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, এক বছর ঘুরেছেন আরো এক বছর ঘুরতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন।

অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, বীমা গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছেন ফারিষ্ট। এমনকি গ্রাহকের টাকা নিয়ে রাতারাতি বীমা কোম্পানিটি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আর এ কারনেই অফিসের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ওই অফিসের আজিজুল ইসলাম বলেন, এই অফিসের ইনচার্জ প্রধান তোজাম্মেল হোসেন অফিসে নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের বীমার পাওনা টাকা দেওয়ার কঠিন চাপ চলছে তার উপর। তাই তোজাম্মেল হোসেন অফিসে না এসে বাড়ীতে পালিয়ে থাকেন। অফিসে কিছু সমস্যার কারনে এসব গ্রাহকদের টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলে ইতিমধ্যে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর মাঠকর্মী হোসনে আরা বেগম বলেন, আমি অফিসের লোকদের ১৩ মাস ধরে তাগিদ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়েছি। কিন্তু তারা আমার আবেদন আমলে নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জোনাল অফিসের ইনচার্জ মো. তোজাম্মেল হোসেনের মুঠোফোন ০১৭৩০০৫২৬৮৮ নম্বরে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তার ব্যবহারিত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় জানান, বীমার মেয়াদপূর্তির দীঘদিনেও টাকা পায়নি। এসব গ্রাহক লিখিত ভাবে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102