শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে বসতভিটা ও চাষাবাদের ৩৩ শতক জমি রক্ষায় নিঃস্ব ফৈমুদ্দিন শুধুই কাঁদছেন! লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে অমানসিক নির্যাতনে অভিযোগ মই দিয়ে ৫ কোটি টাকায় সেতুতে উঠছেন স্থানীয়রা! ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি

পুত্রের পরকীয়ার খেসারত দিতে জেল খাটছেন পিতা ও ভাই!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ২২ বার দেখা হয়েছে
লালমনিরহাট

স্টাফ রিপোর্টার ।। মেহেদী হাসান (৩২)। তার প্রাইভেট ছাত্রীর মা দুই সন্তানের জননী এক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেই প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েও যান মেহেদী হাসান। তাদের সেই প্রেমে বাধ সাজে ওই নারীর স্বামী। তার স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে স্ত্রীর প্রেমিক মেহেদী হাসান ও তার পিতা-ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারীর স্বামী।

সেই মামলা পুত্রের পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন জেল হাজতে মেহেদী হাসানের বৃদ্ধ পিতা হামিদুল ইসলাম ও বড় ভাই হাবিবুর রহমান। এমন ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দলগ্রাম বাজারের এক চা বিক্রেতার সাথে একই এলাকার হামিদুল ইসলামের পুত্র মেহেদী হাসানের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই সুবাদে ওই চা বিক্রেতার সন্তানকে মেহেদী হাসান প্রাইভেট পড়াতেন। এতে ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের এক পর্যায়ে বন্ধুর স্ত্রী ও প্রাইভেট ছাত্রী’র মায়ের সাথে মেহেদী হাসানের পরকীয়া প্রেম শুরু হয়। গত ১৯ জুন মেহেদী হাসান তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

২২ জুন ওই নারী তার স্বামীকে তালাক দিয়ে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। পরে আদালতের আশ্রয় নিয়ে প্রেমিক মেহেদী হাসানকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন ওই নারী। কিন্তু ২৫ জুন ওই নারীর আগের স্বামী দাবী করেন, তার স্ত্রীকে মেহেদী হাসান, তার পিতা হামিদুল ইসলাম ও ভাই হাবিবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। এমন অভিযোগে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় মেহেদী হাসান তার পিতা হামিদুল ইসলাম ও ভাই হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন পুলিশ।

জানা গেছে, পুত্রের পরকীয়া প্রেমে পিতা ও বড় ভাইকে জড়ানো এবং তাদের গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরণের বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মেহেদী হাসান অপরাধী হলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু তার অপরাধের খেসারত কেন তার বৃদ্ধ পিতা ও বড় ভাইকে দিতে হবে ? পিতা ও বড় ভাই তাদের পুত্র ও ছোট ভাইকে পরকীয়া প্রেমের মত নিকৃষ্ট কাজে সহযোগিতা করেছেন এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য ? স্থানীয়রা বলছেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মেহেদী হাসানের সাথে ওই নারীর পুর্বের সর্ম্পক রয়েছে। সেটা যদি সত্য হয় তাহলে অপহরণ হবে কেন ? ওই পরিবারকে হয়রানী করতেই পিতা ও বড় ভাইকে জড়িয়ে এ অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেহেদী হাসানের পরিবারকে হয়রানী করতে এ ঘটনায় কলকাঠি নাড়ছেন ওই এলাকার একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ওই নারীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপহরণ মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী জানান, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে মেহেদী হাসান আমার এতবড় ক্ষতি করেছেন। আমি ওই পরিবারকে এমন শিক্ষা দিতে চাই কেউ যেন আমার মত আর কারো ক্ষতি করতে না পারে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু সাজ্জাদ হোসেন জানান, মেহেদী হাসানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। ৩ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ যাতে ন্যায় বিচার পান সেই লক্ষে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102