মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

পরকীয়ার কারণেই স্বামী জলিলকে হত্যা করলো স্ত্রী ও তার প্রেমিক!

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
  • ৬০ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

আশরাফুল হক ।। পরকীয়ার কারনেই স্বামী জলিলকে হত্যা করা হয়েছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনদিন পর স্বীকার করলেন স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করে লালমনিরহাট পুলিশের বিশেষ টিম।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল হত্যার সাথে জড়িত স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের কথা নিশ্চিত করেন। স্ত্রী মমিনা বেগম লালমনিরহাট পৌরসভার সাপটানা মাজাপাড়া এলাকার মোল্লা মিয়ার কন্যা এবং মৃত স্বামী আব্দুল জলিল সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের শাহার আলীর ছেলে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে মৃত জলিলের তিনদিনের কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগমকে বলে তুমি আমাদের সাথে গ্রামের বাড়িতে চলো, এ কথা শোনার সাথে সাথে মমিনা বেগম রেগে গিয়ে বলেন, আমি আপনাদের বাড়ি আর কোনদিনই যাব না। আমি এখানেই আবার বিয়ে করবো এবং এখানেই থাকবো। মমিনা বেগমের নিকট এ কথা শোনার পর মৃত জলিলের বড়ভাই রশিদের সন্দেহ হয়। সন্দেহের কারনেই পরের দিন (২৫ জুলাই) তার ছোট ভাই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

ওইদিনই পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামালের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন ভাবে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক ভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কোন ক্লু পাচ্ছিলো না পুলিশ। পরে তাদের ফোন কল যাচাই করে (২৭ জুলাই) মঙ্গলবার সকালে তাদের ৪ জনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করেন মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী। হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় পরে বাকী দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে ১৬৪ দারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, কুরবানী ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসাথেই ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী ও মৃত আব্দুল জলিল। ওইদিন গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে অপেক্ষারত স্ত্রী মমিনা বেগম স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখেন এবং পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করে তরিঘরি করে লাশ দাফন করেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম বলেন, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হতে পেরেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪জনকে আনা হলেও স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সরাসরি হত্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বাকী দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সকালে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত আদেশ দিলে ময়না তদন্তের জন্য প্রয়োজনে লাশ কবর থেকে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102