মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়নি! একেই বলে লালমনিরহাটের দেউতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রভুভক্তি! উমাপতি হরনারায়ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাঞ্জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত, একজন আসামি গ্রেফতার লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ) মহাত্মাগান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়াড পেলেন লালমনিরহাটের তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজ পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে! লালমনিরহাট রেলওয়ে চুক্তিভিত্তিক টিএলআর, নিয়োগে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফিরোজ হারিয়েছে…

নীরবে মানবসেবা করে যাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২
  • ১৫৭ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানুষের প্রতি একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের যত ভালবাসা। ‘পাশে আছি মানবিকতায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন জনগণের সুরক্ষা ও সেবায় কাজ করে যাচ্ছে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি প্রতিনিয়ত ছুটছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। (নভেল করোনা ভাইরাস কোভি-১৯) এর কারণে তিস্তা ও ধরলার চরের কয়েক হাজার মানুষ সহ ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বসবাসরত কর্মহীন অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন। করোনাকালীন সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত সদর হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের খোঁজ খবর নেন।

শুধু সহযোগীতায় নয়, করোনার মরদেহ রেখে পালাল গ্রামবাসী, পুরহিতের মোবাইলে মন্ত্রপাঠ, দাহ করে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন। জানা গেছে, উত্তরে ধরলা নদী ও দক্ষিনে তিস্তা নদীর মাঝ খানে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ গঠিত। ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ধরলা নদীর কোল ঘেষা মোগলহাট, তিস্তার কোল ঘেষা খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউপিতে রয়েছে বেশকটি চরও। বিভিন্ন প্রকৃতিক দুযোগসহ ওইসব চরে বসবাসরত মানুষরা করোনা কর্মহীন হয়ে পড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেন।

করোনা আক্রান্তসহ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ভর্তিকৃত রোগীদের খোঁজ খবর নেন। তাছাড়াও সারাদিন নানান সরকারী-বেসরকারী সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজে ব্যস্থ থাকা মানুষটি একটু অবসর পেলেই বেড়িরে পড়েন মানুষের খোঁজে। কখনও গ্রামের কারও বাড়িতে, আবার কখনও হাট-বাজারে কোন দোকানে, কোন কোন দিন হাসপাতালের রোগীদের সাথে। আলাপ চলে সুখ ও দুঃখের। এতে যাকে যেভাবে পারেন সহযোগীতা দেয়ার চেষ্টা করেন। কামরুজ্জামান সুজন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার কর্মকান্ডে ইতিমধ্যে একজন দক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

গরীব, অসহায়, দরিদ্র, নিঃস্ব, হতদরিদ্র, পঙ্গু, বিধবা, কর্মহীন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে একটি লোকও করোনা মহামারির সময় প্রতিদিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অসহায়, নিঃস্ব, কর্মহীন, হত দরিদ্র, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ফুটপাতে চা-পান বিক্রেতা, মিষ্টি দোকানের কর্মচারিসহ নানা স্তরের মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। এছাড়াও ২০২১ইং সালের (২৬ জুন) লালমনিরহাটে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান আওয়ামীলীগ নেতা রমেশ চন্দ্র (৬০)। রমেশ চন্দ্র মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। করোনায় মারা যাওয়ার খবরে গ্রামবাসী আতœীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী কেউ ভিরেনি। তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারীতে গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও করোনা আক্রান্তের ভয়ে কেউ যায়নি রমেশ চন্দ্রের মরদেহের পাশে বা তাদের বাড়িতে।

পরেরদিন (২৭ জুন) আওয়ামীলীগ নেতার মরদেহ পড়ে আছে শুনে মধ্যরাতে ওই বাড়িতে ছুটে যান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন। ওইদিন তিনিও প্রথম দিকে মরদেহ দাহ বা শ্বাশ্মানে নেয়ার মত গ্রামবাসীর কাউকে পাননি। অবশেষে নিজেই বাঁশ কেটে দাহ কার্যের প্রথম স্তর শুরু করলে পাশের গ্রামের চারজন মুসলিম যুবক এসে অংশ গ্রহন করেন।

সবমিলে ভোর রাতে চেয়ারম্যানের দল মরদেহ নিয়ে শ্বাশ্মানে পৌছলে মন্ত্রপাঠের জন্য পুরহিতকে ডাকা হয়। করোনা সংক্রামনের ভয়ে শ্বাশ্মানে আসেননি সেই পুরহিত। অবশেষে নিজ বাড়িতে থেকে মোবাইলে মন্ত্র পাঠ করে দেন পুরহিত। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান সুজনের উপস্থিতিতে ভোর রাতে মৃত আওয়ামীলীগ নেতা রমেশ চন্দ্র রায়ের মরদেহে মুখাগ্নি করেন মৃতের ছেলে সুজিৎ কুমার।

উপজেলার বাসিন্দা সাইদুল রহমান জানান, বিগত দিনে সদর উপজেলার উন্নয়ন বাস্তবায়িত উন্নয়নের সুদূর প্রসারি স্বপ্ন দেখেন উপজেলা চেয়ারম্যান, আর তা বাস্তবায়নেও তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ব। তিনি আশাবাদী মানুষ, তাইতো উপজেলাবাসীকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখছেন আর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নও করবেন।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন, এলাকার মানুষেরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সমস্যায় ভোগে। আইনশৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি আমি মানুষের সমস্যা সাধ্যমতো মোকাবেলার চেষ্ঠা করি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদান করতে পারলে নিজেকে অনেকটাই সার্থক মনে হয়। মানুষের ভালবাসা কেনা যায় না। এটা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আসে। যে ভালোবাসা আমি উপজেলাবাসীর পেয়েছি, এ জন্য নিজেকে অত্যন্ত সফল এবং গর্বিত ভাবি। আমার প্রতি মানুষের যে ভালবাসা আছে, এটা কিন্তু কেনা যাবে না। ইনশাল্লাহ আগামীতেও এভালবাসা থাকবে থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102