রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ শ্বশুর বাড়ির পাশে জামাতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নভেল করোনা থেকে লালমনিরহাটবাসীকে বুকে আগলে রেখেছেন যারা

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ৯৯ বার দেখা হয়েছে
(বাম দিক থেকে) ১। লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, ২। জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর আহমেদ ও ৩। উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন।

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী থেকে লালমনিরহাট বাসী-কে বুকে আগলে রেখেছেন জেলা প্রশাসন। জাতির এই চরম ক্রান্তিকালে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা অতুলনীয়। মানবতার এমনই এক কঠিন দুঃসময়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর আহমেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) টি.এম.এ. মমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ মাঠে-ঘাটে কাজ করে যাচ্ছেন।

সেই সাথে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ অতি মানবীয় গুণাবলীর জনপ্রতিনিধি যৌথ ভাবে কাজ করছেন লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন সেচ্ছায় আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলাগুলো চেয়ে এ জেলা নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী পার্দুরভাব রয়েছে অনেক। লালমনিরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩১ জন। তাই করোনা মহামারী থেকে লালমনিরহাট বাসী-কে বুকে আগলে রেখেছেন জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা চেয়ারম্যান সেচ্ছায় আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন।

জেলা প্রশাসন সুত্র জানান, লালমনিরহাটে কঠোর লকডাউন সফল করতে জেলা প্রশাসন মাঠে কাজ করছেন সর্বাতœক। করোনা শুরু থেকেই সরকারের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে দিন-রাত কাজ করছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর আহমেদ। তিনি নিজেই মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন। তিনি কখনো গাড়ীতে আবার কখনো পায়ে হেঁটে সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লকডাউনে কর্মপরিধি দেখভাল করছেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর-এর দিকনির্দেশনায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) টি. এম. এ. মমিন-এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্টেগুলো পরিচালিত করেন। সেই সাথে উপজেলা পর্যায়ের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন, হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল আমিন, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আঃ মান্নান, লালমনিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উত্তম কুমার রায়। হাতীবান্ধা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা সুলতানা, পাটগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুবেল রানা এবং আদিতমারী সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিলশাদ জাহান এবং আরও কয়েকজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের টিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা দেশের এমন কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে মাঠে রয়েছেন।

সেই সাথে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন করোনা মহামারীর শুরু থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ান মমতার হাত দিয়ে। যারা কখনোই চিন্তা করেন না নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা।

তাছাড়াও সরকার ঘোষিত বার্ধ্যতা মুলক; মাস্ক ব্যবহার, লকডাউন কার্যকর, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, অসহায়, দুঃস্থ ও কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেয়া, গণসচেতনতা সৃষ্টি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তার জন্য তালিকা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে এবং করোনায় উপর্সগ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন-কাফনসহ সৎকারের সব ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে হচ্ছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে। সেই সাথে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ অতি মানবীয় গুণাবলীর কিছু জনপ্রতিনিধি সেচ্ছায় আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর নিজেই মানুষকে বিধি নিষেধ মানাতে তদারকি করছেন। জরুরী কাজ ছাড়া যারা বাহিরে চলাফেরা করছিলেন তাদেরকে ঘরে ফিরতে বাধ্য করেছেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় বিচারিক আদালত সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা কালে, জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এ জেলায় করণা ঝুঁকি বেশি। তাই আমাদের কঠোর হতে হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি, জেলা প্রশাসন লকডাউন নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে মাঠে থাকবে। তিনি আরো বলেন আমাদের, যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, চলমান কঠোর লকডাউনের ১জুলাই থেকে ৭জুলাই পর্যন্ত লালমনিরহাটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানপাট খোলা ও রাস্তায় বের হওয়ায় ১হাজার ৬শ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৪৪০ টাকা অর্থদন্ড আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ১০৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত ৭ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102