রবিবার, ২২ মে ২০২২, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ শ্বশুর বাড়ির পাশে জামাতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নদী ভাঙ্গনে বিদ্যালয়ের চেহারা পরির্বতন : ছাত্র চেনেন না তার বিদ্যালয়!

স্টাফ রিপোর্টার ।।
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৯ বার দেখা হয়েছে

সাইফুল ইসলাম, ৫ম শ্রেণীর ছাত্র, সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশুনা করেন। গত বছর যখন সে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলো তখন করোনা সংক্রামনের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে গত ১৮ মাসে তার আর বিদ্যালয়ে আসা হয়নি।

দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খুলেছে। সাইফুল ইসলাম ৪র্থ শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীতে উঠেছে। বিদ্যালয় এসেওছেন কিন্তু সেই রঙ্গীন টিনের সেই সৌন্দর্যময় বিদ্যালয়টি আর নেই। বিদ্যালয়ে এসে সহপাঠীদের কাছে জানতে পারে ১ মাস আগে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে তার বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ অবস্থা শুধু পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয়। গত ২৭ আগষ্ট একই ইউনিয়নের পুর্ব হলদীবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে যায় একই এলাকার কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিও। তবে বিদ্যালয় দুইটি পুণঃ স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ২৭ জুলাই ও পুর্ব হলদীবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ২৭ আগষ্ট তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়। পুর্ব হলদীবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন ৩ টি কক্ষে পাঠদান দেয়া হচ্ছে।

পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওই এলাকার সাত ভাইয়ের বালু চরে একটি টিনের চালা করে পাঠদান দেয়া হচ্ছে। প্রচন্ড রোদের কারণে ওই টিনের চালার মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে শিক্ষাথর্ীদের। স্থানীয় প্রশাসন বিদ্যালয় ২টি পুণঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে ওই বিদ্যালয়ের স্থান নিধার্রণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলেন, টিনের চালা ও গরম বালুর উপর ক্লাস করতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। উপরে টিনের তাপ ও নিচে বালুর তাপ। আমাদের বিদ্যালয়ে যদি জরুরী ভাবে ভালো ক্লাস রুম করে না দেয় তাহলে আমরাদের ক্লাস করতে খুব কষ্ট হবে।

ওই এলাকার হাফিজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে ভেঙ্গে যাওয়ায় এই চরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আগে সে চরে বিদ্যালয়টি ছিলো ওই চরে এখন মাত্র ২০/২৫টি পরিবার বসবাস করে। বর্তমানে যে স্থানে টিনের চালা করে বিদ্যালয় তৈরী করা হয়েছে সেই চরে দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে।

সে কারণে এই স্থানে ভালো মানের ক্লাস রুম তৈরী করলে অনেক বাচ্চা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। দেখে মনে হচ্ছে, এই চরটি সহজে নদী ভাঙ্গনের শিকার হবে না। আগে যেখানে স্কুল ছিলো ওই স্থানে যদি আবারও স্কুল তৈরী করা হয় তাহলে আগামী বন্যায় আবারও নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে বিদ্যালয়টি।

পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিনুর ইসলাম বলেন, বর্তমান যে চরে টিনের চালা করা হয়েছে ওই চরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি। সে কারণে ওই চরে বিদ্যালয়টি পুণঃস্থাপনসহ জরুরী ভাবে ক্লাসরুম তৈরী করা প্রয়োজন।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুজিবুল আলম সাহাদাত বলেন, এবার নদী ভাঙ্গনে আমার ইউনিয়ন দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শিক্ষাথর্ীরা টিনের চালায় কষ্টে ক্লাস করছে। তাদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে পরিবেশ উপযোগী ক্লাসরুম তৈরী করা প্রয়োজন।

হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, আমি বিদ্যালয় দুইটি পরিদর্শন করেছি। জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয় দুইটির স্থান নির্ধারণ করে অবকাঠামো তৈরীর ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102