মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়নি! একেই বলে লালমনিরহাটের দেউতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রভুভক্তি! উমাপতি হরনারায়ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাঞ্জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত, একজন আসামি গ্রেফতার লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ) মহাত্মাগান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়াড পেলেন লালমনিরহাটের তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজ পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে! লালমনিরহাট রেলওয়ে চুক্তিভিত্তিক টিএলআর, নিয়োগে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফিরোজ হারিয়েছে…

দু’দেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত : কাঁটাতারের বেড়াবিহীন ৫৪ কিঃমিঃ লালমনিরহাট সীমান্ত

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ৯২ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ লালমনিরহাট জেলার ২৮৪ কিলোমিটার ভারত সীমান্ত পথের ৫৪ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে দু’দেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। অরক্ষিত সীমান্তের কারণে করোনা ঝুঁকিতে আছে জেলার ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। এতে জেলায় বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও। ২৬ এপ্রিল থেকে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে যাতায়াত বন্ধ ও ২৪ মে থেকে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় চলছে লকডাউন। সীমান্ত পথে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করলেও লালমনিরহাটের অরক্ষিত সীমান্ত পথে দু’দেশের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়নি।

করোনায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দু’দেশের মানুষরা জেলার একাধিক সীমান্ত পকেট গেট ব্যবহার করছেন। ফলে বুধবার (১৬ জুন) ভোর রাতে বানের পানির মত ভারতীয় গরু চোরাই পথে এসেছে। এসব গরুর মধ্যে পানবাড়ি বিজিবি ১৩টি ভারতীয় গরু আটক করেছে। এ ছাড়াও সীমান্তের বিভিন্ন পকেট পয়েন্ট দিয়ে নারী শিশু পাচারের বেশকিছু চিত্র এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ফলে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিহাটের মানুষ।

জানা গেছে, সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে জেলার মোট সীমান্ত পথে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন তথা ১৫, ৫১ ও ৬১ ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্ত পথে সীমান্তরক্ষীদের নজরদারী ফাঁকি দিয়ে চলছে চোরাকারবারি ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। দুই দেশের দালাল চক্রের মাধ্যমে চলছে মানুষ পারাপার। এদিকে আগামী কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তের অন্তত ৩০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে প্রায় প্রতিরাতে গরু পারাপার করছে শতাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। এসব গরু আবার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। এ ছাড়া জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে কয়েক শত ট্রাক। এসব ভারতীয় ট্রাকের সাথে আসা চালক ও সহকারী চালকরা স্থলবন্দরের বিভিন্ন হোটেলে খাবার খাচ্ছে এবং চলাফেরাও করছেন।

একটি সুত্র জানান, কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্ত গুলো প্রায় উম্মুক্ত। বুড়িতিস্তা, ধরলা ও তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত। কোথাও কোথাও রয়েছে দূর্গম চরাঞ্চল। সীমান্তের এই দূর্বলাতার সুযোগ নিয়ে কোরবানির ঈদে গরুর চাহিদার উপর নির্ভর করে গরু পাচারকারিরা বেপোরয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তের দহগ্রাম, দৈইখাওয়া, কালীগঞ্জ, চাপারহাট, গোড়ল, কুটিয়ামঙ্গল, দূর্গাপর ও মোগলহাট সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ভারতীয় গরু আসছে। এসব গরু দেশী গরুর সাথে মিশিয়ে স্থানীয় বড়বাড়ি হাট, শিয়াল খোওয়ায়হাট, চাপারহাট, দূরাকুটিহাট প্রকাশ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি এসব গরু ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া, রংপুরসহ নানা স্থানে ট্রাকভর্তি করে পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে।

লালমনিরহাটে ২৮৫ কিঃমিঃ সীমান্তে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবিকে সীমান্তে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তিনটি পৃথক ব্যাটালিয়ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সীমান্তে হঠাৎ গরুপাচার, মাদক পাচার, নারী, শিশু পাচার ও মানুষ পাচার সহ নানা অবৈধ সীমান্ত ব্যবসা বেড়ে গেছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি সীমান্ত ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় কৃষি কাজের নাম করে ভারতীয়রা যেমন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তেমন বাংলাদেশীরাও ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এসব লোকের অনেকের রয়েছে দু’দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। মাদক ব্যবসায়ীরা দুই দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে গিয়ে অবস্থান করছে। আর এভাবেই চলছে সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। এ কারণে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার ১৫লক্ষাধিক মানুষ।

সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই স্কুলশিক্ষকসহ এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এপর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪০২ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১ হাজার ১৬৩ জন করোনা সনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারেও ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে লালমনিরহাটে করোনা শনাক্তের হার ৩৭-৩৮ শতাংশ, যা দুই মাস আগেও ছিল ১০-১১ শতাংশ। সীমান্ত পথে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করলেও লালমনিরহাটের অরক্ষিত সীমান্ত পথে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102