বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

‘তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে’

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৯৩ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। ‘তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে’- আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে এমন একটি বার্তাই দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন। মুনিয়া-শারুনের গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁসের মাধ্যমে মিলেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনেকেই বলাবলি করছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে ফাঁসিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিতেই কী তাহলে মুনিয়াকে আত্মহননে প্ররোচিত করেছেন শারুন? শুধু তাই নয়, ফাঁস হওয়া চ্যাট থেকে স্পষ্ট অনেক আগে থেকেই মুনিয়ার সঙ্গে অনৈতিক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন হুইপপুত্র।

আত্মহত্যা করা তরুণীটির সঙ্গে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটেরও অবৈধ সম্পর্ক ছিল, এটিও বেরিয়ে এসেছে ফাঁস হওয়া চ্যাট থেকেই। সেই চ্যাটে মুনিয়া শারুনকে লিখেছেন- ‘সম্রাট চলে যাওয়ার পর আপনি তো জানেন আমি কতো কষ্টে ছিলাম।

আর লাস্ট ইয়ারে তো আমি খুবই কষ্টে ছিলাম। আপনি ওই টাইমে আমার পাশে না থাকলে আমি কী করতাম জানি না।’ ইতোমধ্যেই এসব চ্যাট ভোরের পাতার হাতে এসেছে।

জানা যায়, শারুন-মুনিয়া নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। হোয়াটসআপে ও টেলিগ্রামে নিয়মিত বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর সংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট শারুনকে জানাতেন মুনিয়া। শারুন কায়দা কৌশল করে মুনিয়াকে নানাভাবেই আনভীরের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। মুনিয়ার ভাষায় হুইপুত্র যেন সাক্ষাৎ এক ফেরেশতা!

এদিকে, মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে একটি সূত্র তাঁর কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়।

শারুন বলেন, সূত্রের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেন। তবে কে তাঁকে ফোন করেছিলেন, সে ব্যাপারে হুইপপুত্র কিছু বলতে চাননি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে, মৃত্যুর আগে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মোসারাত জাহান মুনিয়ার কথা হয়েছিল। এ কারণেই শারুনের সঙ্গে কথা বলে ওই সূত্র।

শারুন বলেন, তাঁর কাছ থেকে গতকাল বিকেলে একটি সূত্র মোসারাতের সঙ্গে কথোপকথনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে জানতে চেয়েছে, তিনি মোসারাতকে চেনেন কি না। শারুন জানান, মোসারাতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। গত বছর মোসারাত ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই তাঁকে জানান, বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রীর সম্পর্ক হয়েছে।

তবে শারুনের দাবি, মোসারাতের মৃত্যুর পর ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে এই কথোপকথনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন শারুন।

শারুন-মুনিয়ার চ্যাটের অংশবিশেষ

মুনিয়াও শারুনকে আক্ষেপ করে বলতেন, ‘আপনার লাইফে আপনার ওয়াইফের আগে যদি আমি আসতাম।’ এর উত্তরে শারুন বলেছেন, ‘আমি ভালো মানুষ না। জাস্ট উপকার করি।’ কোন কোন চ্যাটে মুনিয়া লিখেছেন, ‘আমার আপনার ভেতরে যা হয়েছে ওইটা কেউ জানবে না। আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন।’
শারুন-মুনিয়ার চ্যাটের অংশবিশেষ
শারুন-মুনিয়ার চ্যাটের অংশবিশেষ
নিজেদের মধ্যকার এসব চ্যাট নিয়ে অবশ্য উৎকন্ঠায় ছিলেন শারুন। সেই কথাই জানিয়েছিলেন মুনিয়াকে। উত্তরে মুনিয়া লিখেছিলেন ‘জি না, আমি ডিলিট করে দেই সব।’

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘিরপাড় এলাকায়। এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মোসারাত।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর বোন বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আনভীরের বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে শারুন চৌধুরী ভোরের পাতাকে বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে এসব স্ক্রিনশট বানানো হয়েছে। এগুলো পুরোপুরি ভুয়া এবং বানোয়াট। মেয়েটার সাথে আমার গত এক বছরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। হোয়াটসআ্যাপে কোনোদিন কথাই হয়নি। পৃথিবীর যেকোনো ডিজিটাল ল্যাবে এই স্ক্রিনশটগুলো পরীক্ষা করলেই সেগুলো ভুয়া প্রমাণিত হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ওই ফ্ল্যাটে বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াত ছিল। কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন, তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, গুলশানে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। কারও অপরাধ থাকলে তাঁর শাস্তি হবে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। শারুন ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও [নতুন বাংলার সংবাদ] পত্রিকার অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফ স্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-bijoynews2011@gmail.com এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102