শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নতুন কমিশনার গোলাম ফারুক

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।।
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে
নতুন কমিশনার গোলাম ফারুক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন তিনি।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাস্ট্রপতির অনুমতিক্রমে এই প্রজ্ঞাপন জারী করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের উপসচিব মো.হারুন-অর-রশীদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে সদ্য পদায়ন হওয়া কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক নিজেই। তিনি বলেন, ঢাকার ২ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সে দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবো। ইনশাল্লাহ।

চলতি মাসের ২৯ তারিখে বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। তারপরওই ডিএমপি কমিশনার হিসেবে যোগ দিবেন তিনি।

খন্দকার গোলাম ফারুক মানুষের পাশে থেকে বিপদে সাহায্য করবেন বলে পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের লক্ষ্য নিয়েই নবম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মেধা তালিকায় ছিলেন একেবারে প্রথম দিকে। নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রশাসন ক্যাডারে। ক্যাডার পছন্দ না হওয়াতে দশম বিসিএস-এ আবারও অংশগ্রহণ করলেন। এবার মেধা তালিকায় হলেন প্রথম।

এবারও নির্বাচিত হলেন প্রশাসন ক্যাডারে-কিন্তু মানুষকে পাশে থেকে সরাসরি মানুষের সেবা করার সুযোগটা পুলিশ ক্যাডারে বেশি বলেই তাঁর ও তাঁর বাবা মায়ের আগ্রহ বেশি ছিল পুলিশ ক্যাডারেই। শেষ চেষ্টা তৃতীয়বারের মতো আবারও দিলেন বিসিএস পরীক্ষা। এবার পেলেন কাঙ্খিত সেই জয়। ১২তম বিসিএস-এ নির্বাচিত হলেন সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে। দুই-দুইটি বছর পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করলেন পেশাগত যুদ্ধ।

দুইবার মেধা তালিকায় থাকার পরও তৃতীয়বার বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন জানতে চাইলে মৃদু হাসেন তিনি। বলেন, সেই শৈশব থেকেই মানুষের বিপদে পাশে থাকার দীক্ষা পেয়ে বড় হয়েছি। বিএসএস’র ক্যাডারগুলোর মধ্যে একমাত্র পুলিশ ক্যাডারে বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোকে সেবা দেওয়ার সুযোগটা বেশি-তাই আমি পুলিশ হতে চেয়েছিলাম এবং হয়েছি। লক্ষ যদি ঠিক থাকে দেরিতে হলেও বিদাতা আপনাকে সেই লক্ষে পৌচ্ছে দিবে-আমার পুলিশ ক্যাডার হয়ে ওঠাটা তারই উজ্জ্বল প্রমাণ। যোগ করলেন তিনি।

শুধুমাত্র মানুষের পাশে থাকবেন বলে; বিপদে সাহায্য করবেন বলে-যে মানুষটি বিসিএস’র মতো কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার লড়াইয়ে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং সফলতার সাথে উত্তীর্ণও হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবী কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে সদ্য পদায়ন হওয়া কমিশনার, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক, বিপিএম (বার), পিপিএম।

মন-মননে অত্যন্ত উদার, মেধাবী এই মানুষটি টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর থানার ঘাটান্দি গ্রামে সভ্রান্ত এবং শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৪ সালের ১ অক্টোবর। বাবা মৃত খন্দকার হায়দার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম। স্ত্রী শারমীন আক্তার খানের সাথে ঘাটছড়া বাঁধেন ১৯৯৩ সালে।

খন্দকার গোলাম ফারুকের দাদা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনের গৌরবধারী একজন শিক্ষানুরাগী। শিক্ষার অনুপ্রেরণাটা তাই পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন তিনি।

আলাপচারিতায় অকপটে বলেন, বাবা গ্রামেই থাকতেন। কৃষিকাজ দেখাশুনা করতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলেকে সুশিক্ষিত করে সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবেন। বাবার সে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, শৈশবে অভাব না থাকলেও স্বাচ্ছন্দ্যের পুরোটা হয়তো ছিল না। ছিল না প্রাইভেট শিক্ষক রেখে লেখাপড়া করার সুযোগও। তবুও নিজের চেষ্টা এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ ও দোয়ায় সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীণ হয়েছি।

শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছে তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। যুদ্ধ কী তেমন করে বুঝিনি। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী বিধস্ত সময়ের দারিদ্রতার যুদ্ধ দেখেছি। দেখেছি গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলোর বেঁচে থাকা প্রানান্তর লড়াই।

বাবা আমাকে প্রায়শ্চই বলতেন, বড় হয়ে হতদরিদ্র এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। বিপদে সাহায্য করতে হবে। বাবার সে আদেশ পালন করতে মানুষের সেবা করার জন্য আমি পুলিশ হয়েছিলাম। বলেন গোলাম ফারুক।

ভুঞাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বারই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন গোলাম ফারুক। এরপর ভুঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৯ সালে এস.এস.সি সম্পন্ন করে ভুঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮১ সালে এইচ.এস.সি সম্পন্ন করেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি সম্পন্ন করেন ১৯৮৮ সালে। পরে ২০০৭ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে সম্পন্ন করেন এম.এ।

চাকরি জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, চাকরির একদম শুরুর দিকে। তখন আমি এ.এস.পি প্রবেশনার হিসেবে কর্মরত। ভাঙা থানায় ইন্সপেকশন বাংলোয় থাকতাম। একদিন এক দরিদ্র বৃদ্ধ লোক আমার কাছে এসে কেঁদে কেঁদে বললেন, ‘তাঁর বসতবাড়ি কিছু দূর্বৃত্ত দখল করে তাঁকে বের করে দিয়েছে।’ সাথে সাথে আমি অভিযোগ নি। কিছু ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দূর্বৃত্তদেও গ্রেফতার করে বৃদ্ধকে তার বাড়ি বুঝিয়ে দেই।

এরপর দিন ভোরবেলা। সে বৃদ্ধ আমার বাসার সামনে বসে আছেন। সাথে নিয়ে এসেছেন নিজ গাছে খেজুরের রস আর গুড়। অশ্রুভেজা চোঁখে আমার জন্য দোয়া করে বললেন, জীবনে অনেক বড় হন বাবা।

গোলাম ফারুক বলেন, সেদিন থেকে দীর্ঘ এই চাকরিজীবনে কাজ করেছি অসহায়, দরিদ্র মানুষের জন্য। আজ তাঁদেও দোয়ায় আমি এই অবস্থানে। যতদিন চাকরি করবো মানুষের জন্য আমরা দরজা সবসময় খোলা থাকবে।

ব্যক্তি জীবনে তিন কন্যা সন্তানের বাবা তিনি। বড় মেয়ে ডা. ফাবলিহা খন্দকার’র জন্ম ১৯৯৬ সালের মে। মেজো মেয়ে নাবলিহা খন্দকার’র জন্ম ২০০০ সালের ৯ অক্টোবর। ছোট মেয়ে তাসনিয়াহ খন্দকার জন্মগ্রহণ করেন ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর।

১২ বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হয়ে খন্দকার গোলাম ফারুক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন ২০ জানুয়ারি ১৯৯১ সালে। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এপিবিএন, বগুড়া তে। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার, সিএমপি, সহকারী পুলিশ সুপার, খাগড়াছড়ি (সার্কেল), সহকারী কমিশনার, ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন।

এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলাতে। পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, জামালপুর, ময়মনসিংহ জেলায়। এছাড়া সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এপিবিএন, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ-এ। দায়িত্ব পালন করেছেন এআইজি, পুলিশ সদর দপ্তর, এসএস, সিটিএসবি তে। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন ডিএমপি’র জয়েন্ট কমিশনার। দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে।

ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডিএমপি ও ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রংপুর ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ-এ। পরবর্তীতে ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সারদা পুলিশ একাডেমি, রাজশাহী এবং অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ এর রেক্টর হিসেবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102