মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

জুলাই থেকে মেট্রোরেলের ট্রায়াল চালু হচ্ছে

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০৭ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। রাজধানীতে স্বপ্নের মেট্রোরেলের অবকাঠামোর শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম ধাপের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি জানুয়ারি পর্যন্ত ৮০ দশমিক ২১ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আর তৃতীয় ধাপে ট্র্যাকস স্থাপন করা ও ট্রেনের বগিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করার কাজের অগ্রগতি ৪৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন আগামী এপ্রিলে দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জুলাই থেকে শুরু হতে পারে মেট্রোরেলের ট্রায়াল রান।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক গণমাধ্যম বলেন, মেট্রোরেলের ট্রেনগুলো বানাচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি। সব মিলে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। জাপানের ওবে বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে ট্রেনটি রওনা দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের মোংলা বন্দর থেকে উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোতে ট্রেনটি এসে পৌঁছাতে পারে ২৩ এপ্রিলে।

তিনি আরও জানান, ট্রেনগুলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জুলাই থেকে ট্রায়াল রান দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা আছে। ট্রায়াল রান শুরু করতে হলে ন্যূনতম তিনটি স্টেশন প্রস্তুত করে রাখা দরকার। সেখানে এরই মধ্যে পাঁচটি স্টেশন প্রস্তুত। ডিপো এলাকায় ট্রেনগুলো রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের যাত্রা শুরুর আশা করছেন তিনি।

ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দুপাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংবলিত প্রতিটি টেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্টকার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুনে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৫৭ শতাংশ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের।

মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৬ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডিএমটিসিএল। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা তৃতীয় ধাপ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক এক কিলোমিটার ব্যাপ্তির এই মেট্রোরেল লাইন তৈরি হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং ২০২০ সালের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল সার্ভিস চালু করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৯ সালের মে’তে কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশে যখন স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ই প্রকল্পটি চালু করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102