সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

চরবাসীর ঈদ আনন্দ মলীন

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ১৩১ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বঞ্চিত লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা পাড়ের চরাঞ্চলের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদ উপলক্ষে নুতন জামা-কাপড় ও মাংস কেনা তো দূরের কথা অনেকের ঘরে ঈদের দিনও একমুঠো খাবারের ব্যবস্থাও নেই। ভাত রান্না করলেও নেই তরকারি। রোজা রাখছেন আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে। সেই আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেতে হবে ঈদের দিনটিতেও। বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত চরাঞ্চলের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের ঈদ আনন্দ মলীন হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার বুকজুড়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও সদর উপজেলার মোগলহাট এবং কুলাঘাট ইউনিয়নের মাঝ নিয়ে বয়ে চলা ধরলার তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামের মানুষরা বন্যা ও ভাঙনে তাদের বসতভিটা, ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও গৃহপালিত প্রাণী হারিয়ে বেশি দরিদ্র হয়ে উঠেছেন। ফলে এসব পরিবারের লোকজন দুর-দুরান্তরে বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত পড়েছেন। কিন্তু নভেল করোনা ভাইরাসে দেশের এমন কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে তারা কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে বসে অলস সময় পাড় করছেন। কোন রকম ভাত রান্না করলেও নেই তরকারি। আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেতে হচ্ছে তাদের। আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদ উপলক্ষে নুতন জামা-কাপড় ও মাংস কেনা নিয়ে আছেন তারা মহা চিন্তায়।

তিস্তা নদীতে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, গোড্ডিমারী, সিন্দুর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৬৩টি চরে বসবাস ওই সব পরিবারের। অন্যদিকে সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের ধরলার তীরবর্তী চর রয়েছে। এসব চরাঞ্চলের গ্রামের বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঈদ উপলক্ষে নুতন জামা-কাপড় ও মাংস কেনা তো দূরের কথা অনেকের ঘরে ঈদের দিনও একমুঠো খাবারের ব্যবস্থাও নেই।

তিস্তা ও ধরলার তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারেননি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তার আশায় আছি। ঈদ উপলক্ষে সন্তানের জন্য পোশাক কিনতে পারিনি। বাহিরে কাজে যেতে পারছেন না। হাতে কোনো টাকা পয়সা নাই। ঈদের জন্য ভালো খাবার ও অন্যান্য জিনিসও কিনতে পারিনি।

চরগ্রামের নুরুল ইসলাম (৫২) বলেন, ‘ঈদের দিন সন্তানদের নিয়ে আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেতে হবে মনে হয়। সন্তানরা নতুন কাপড় ও মাংসের জন্য কান্নাকাটি করবে। কিন্তু, তাদের আশা পূরণ করব কিভাবে। ঘরে খাবার নেই। তাই ঈদ উপভোগ করা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

তিস্তার চর কালমাটি এলাকার মজিরন বেগম (৪৪) বলেন, তিন শিশু নতুন পোশাকের জন্য কেঁদেছিল। কিন্তু, হাতে টাকা না থাকায় তাদের জন্য নুতন জামা কিনতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের শিশুদের এবারের ঈদ উপলক্ষে পুরানো পোশাক পরতে বলেছি। ঈদ আমাদের জন্য কেবল বেদনাই বয়ে এনেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102