মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়নি! একেই বলে লালমনিরহাটের দেউতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রভুভক্তি! উমাপতি হরনারায়ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাঞ্জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবরাম স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত লালমনিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৫ সাংবাদিক আহত, একজন আসামি গ্রেফতার লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী (ভিডিও সহ) মহাত্মাগান্ধী গোল্ডেন এ্যাওয়াড পেলেন লালমনিরহাটের তিস্তা কে. আর. খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজ পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে! লালমনিরহাট রেলওয়ে চুক্তিভিত্তিক টিএলআর, নিয়োগে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফিরোজ হারিয়েছে…

কোরবানির ঈদকে ঘিরে লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু পাচারকারীরা বেপোরয়া

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২
  • ১১৬ বার দেখা হয়েছে

আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ দেশের উত্তরে অবস্থিত সীমান্তবর্তী একটি জেলা নাম লালমনিরহাট। ২৫.৪৮ ডিগ্রি থেকে ২৬.২৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩৮ ডিগ্রি থেকে ৮৯.৩৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে জেলাটির অবস্থান। এ জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা, দক্ষিণে রংপুর জেলা, পূর্বে কুড়িগ্রাম ও ভারতের কোচবিহার জেলা এবং পশ্চিমে রংপুর ও নীলফামারী জেলা। উত্তরে ধরলা নদী ও দক্ষিনে তিস্তা নদী এবং ৭৪ কিঃমিঃ কাঁটাতারের বেড়াবিহীন লালমনিরহাট সীমান্ত উম্মুক্ত। ফলে সীমান্তের এই দূর্বলাতার সুযোগ নিয়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে ভারতীয় গরু পাচারকারীরা বেপোরয়া হয়ে উঠেছে। এখনো প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু হাট-বাজাররে দেশী গরুর সাথে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার ২৮৫ কিঃ মিঃ ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের প্রায় ৭৪ কিঃমিঃ কাঁটাতারের বেড়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্তগুলো হল, বুড়িতিস্তা, ধরলা ও তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত। কোথাও কোথাও রয়েছে দূর্গম চরাঞ্চল। সীমান্তের এই দূর্বলাতার সুযোগ নিয়ে কোরবানির ঈদে গরুর চাহিদার উপর নির্ভর করে গরু পাচারকারিরা বেপোরয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তের দহগ্রাম, দৈইখাওয়া, কালীগঞ্জ, চাপারহাট, গোড়ল, কুটিয়ামঙ্গল, দূর্গাপুর ও মোগলহাট সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ভারতীয় গরু আসছে। এসব ভারতীয় গরুর বেশির ভাগ ধরলা নদী দিয়ে নৌপথে কাঁঠালবাড়ি ও বড়বাড়ি হাটে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সপ্তাহের শনিবার-বুধবার জেলার কালীগঞ্জের শিয়াল খোওয়ায়হাট, হাতীবান্ধার চামটা, শুক্রবার-সোমবার চাপারহাট, শনিবার-মঙ্গলবার দূরাকুটিহাট ও বুধবার বড়বাড়িরহাটে শতশত ভারতীয় গরু চোরাইপথে এনে দেশি গরুর সাথে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই সব গরু প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে দেশে বিভিন্ন জেলা ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া, রংপুরসহ নানা স্থানে ট্রাকভর্তি করে পাচার হয়ে চলে যায়।
একটি সুত্র জানান, লালমনিরহাট ২৮৫ কিঃমিঃ সীমান্তে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবি দায়িত্ব পালন করে আসছে। সীমান্তে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তিনটি পৃথক ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। আইন শৃংখলা বাহিনী তল্লাশীতে গিয়ে হাটের স্লীপ দেখে ফিরে আসে। প্রকৃত অর্থে এটা অযুহাত মাত্র। এক জোড়া ভারতীয় গরু পাচার হয়ে আসেলে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী, অন্যান্য বাহিনী, রাজনৈতিক কর্তা, মাস্তান তো রেসিও অনুয়ায়ী অর্থ পেয়ে থাকে। এই গরুর অবৈধ অর্থেও কারণে সীমান্ত সংলগ্ন হাটের ইজারাদার ও চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। অনেকে গরুর ব্যবসার পাশাপশি হুন্ডির ব্যবসা করছে। কিন্তু মাফিয়া এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়না। বহস্যজনক কারণে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগণ কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এভাবে গরু আসলে দেশী খামারে লালন-পালন করা গরুর খামারিরা লোকসানে পড়তে হবে।
এদিকে বেশ কয়েকটি সীমান্ত ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় কৃষি কাজের নাম করে ভারতীয়রা যেমন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তেমন বাংলাদেশীরাও ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এসব লোকের অনেকের রয়েছে দু’দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। মাদক ব্যবসায়ীরা দুই দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে গিয়ে অবস্থান করছে। আর এভাবেই চলছে সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। ফলে সরকারকে কঠোর হস্তে ভারতীয় গরু পাচার রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে খামারিগণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102