শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে বসতভিটা ও চাষাবাদের ৩৩ শতক জমি রক্ষায় নিঃস্ব ফৈমুদ্দিন শুধুই কাঁদছেন! লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে অমানসিক নির্যাতনে অভিযোগ মই দিয়ে ৫ কোটি টাকায় সেতুতে উঠছেন স্থানীয়রা! ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি

কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির গোলা

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৪৮ বার দেখা হয়েছে
হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির গোলা।

মোঃ ইমরান ইসলাম, নওগাঁ ।। মাটির দোতলা বাড়ির সামনে ধান রাখার বিরাট ছয়টি মাটির গোলা।নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সদরের দেওয়ানপাড়া দিয়ে গেলে রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে এ দৃশ্য।ব্যস্ত পাকা রাস্তার ঠিক কোল ঘেঁষেই মাটির বাড়ি ও গোলা শুরু।

তাই এই রাস্তা পার হওয়ার সময় আনমনা না থাকলে এ গোলাওয়ালা বাড়ি চোখে না পড়ার কোনো কারণ নেই।বরেন্দ্র অঞ্চলে মাটির বাড়ি সাধারণত চোখে পড়েই।কিন্তু বাড়ির সামনে আগের মতো ধান রাখার মত বড় বড় মাটির গোলা আর চোখে পড়ে না।সেদিক থেকে বরেন্দ্রভূমির ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক ও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন এ বাড়ি আর গোলাগুলো। ৫০০ থেকে ৫৫০ মণ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলগুলো কেবল ঐতিহ্য হিসেবে প্রদর্শন করার জন্য নয়।বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে অবস্থানকালেও এই গোলায় ধানের মজুত থাকে।

বাপ-দাদার আমলের কীর্তি,বরেন্দ্রভূমির ঐতিহ্য-আভিজাত্য আর স্বাস্থ্যসম্মত ও আরামদায়ক বসবাসের জন্য ভালো লাগা থেকেই প্রয়াত আজিজুর রহমানের তিন সন্তানই চান পিতৃপুরুষের এই স্মৃতি অটুট রাখতে।প্রয়াত আজিজুর রহমানের ছেলে সাইদুর রহমান (৬৫), জায়দুর রহমান (৬৭) ও লুৎফর রহমান(৭০) জানান, বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর উভয় পাশে মাটি দিয়ে লেপে নির্মাণ করা হয়েছে ধান রাখার গোলা।আধুনিক পাকা অট্টালিকার বদলে এই মাটির বাড়ি, মাটির গোলা তাঁদের কাছে অনেক প্রশান্তির, অনেক মর্যাদার।সেই ভালোবাসা থেকেই ব্রিটিশ আমলের, কমপক্ষে শত বছরের পিতৃপুরুষের অন্য একটি মাটির দোতলা বাড়িও অক্ষত রেখেছেন তাঁরা।

অনেক কৌতূহলী মানুষ এগুলো পরিদর্শনে আসেন।এই অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপনকারী পূর্বপুরুষ তেলেঙ্গা মোড়লকে নিয়েও তাঁদের গর্বের সীমা নেই।কথায় কথায় তাঁরা জানালেন, তেলেঙ্গা মোড়ল ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের বীর নেত্রী ঝাঁসির রানির অনুসারী। লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন।তখন এই এলাকা জনমানবহীন ঝাড়-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল।

তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমজীবী শ্রেণির মানুষকে একত্র করে গড়ে তোলেন এই গ্রাম।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ জানান, শুধু নিয়ামতপুর উপজেলাই নয়,নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের কাছে এ বাড়ি পরিচিত।

বাড়ির মালিক প্রয়াত আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ১৯৭০ সালসহ তিনবারের সাংসদ সদস্য ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102