মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিয়াস মোল্লা’কেই পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চায় লাউকাঠী ইউনিয়নবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ-দৌড় দিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা! লালমনিরহাটে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্নের ধান! হাতীবান্ধায় ন্যাশনাল ব্যাংকের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ভুট্টাক্ষেতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ তিস্তা বাঁচাও ভাঙ্গন ঠেকাও শীর্ষক তিস্তা কনভেনশন কাজীর কান্ড! কাবিননামা নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত! লালমনিরহাটে বিএনপির বাইসাইকেল র‍্যালিতে মির্জা ফখরুল লালমনিরহাটে অস্ত্রসহ ৪ জন জনতার হাতে আটক।। পুলিশে সোপর্দ

কারাগারে ঘুমাতে পারছেন না বহুল আলোচিত মিন্নি

নতুন বাংলার সংবাদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।। বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বছর আজ। ২০১৯ সালের এই দিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে বন্ড বাহিনীর হামলায় নিহত হন শাহ্ নেওয়াজ রিফাত শরীফ।

এ ঘটনায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই কারাগারে আছেন মিন্নি।

এদিকে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নয় মাস পরও মিন্নিকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার বাবা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন তিনি।

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নিকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হলো, ওকে ফাঁসির দণ্ডের দণ্ডিত করা হলো, এটা অন্যায়ভাবে করা হয়েছে। মিন্নি কোনভাবেই দোষী না এবং ও (মিন্নি) কোন পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। এটা কেউ প্রমাণও করতে পারেনি। কুচক্রী মহল মিন্নিকে এই মামলায় জড়িয়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত করেছে। মিন্নিও আমার কাছে বলেছে, আব্বু আমি দোষী না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। উচ্চ আদালতে আমি বেকসুর খালাস পাবো। সত্যের জয় একদিন হবেই।

তিনি বলেন, আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে- মিন্নি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। কিন্তু মিন্নি কোথায় পরিকল্পনা করেছে? পরিকল্পনা যারা করেছে তারা কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পনা করেছে কিন্তু এসবের সঙ্গেতো মিন্নি ছিল না। মিন্নি যদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকত বা কোন ভাবেই এটা জানতে পারত তাহলে কখনোই ওই দিন কলেজে যেত না।

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মৃত্যুর আগে রিফাত তার বাবার কাছে হামলাকারীদের নাম বলেছে এবং মামলায় মিন্নিকে সাক্ষী করতে বলেছেন। রিফাতের কথা অনুযায়ী তার বাবা মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার এজাহারে এসব কথা স্পষ্টভাবে লেখা আছে। এছাড়াও নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ যে সাক্ষী দিয়েছেন, তাতেও এসব কথা উঠে এসেছে। পরবর্তীতে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী উপস্থাপন করে মিন্নিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মিনি আসলেই নির্দোষ। তাই আমি দৃঢ় আশাবাদী- আল্লাহর রহমতে উচ্চ আদালতে আমরা সুফল পাব। এছাড়া আমার জামাই ও কোন অন্যায় করেনি। সেও নির্দোষ ছিল। আল্লাহর রহমতে মিন্নি আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেই।

মিন্নির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দাঁতে ব্যথা ও মাথা ব্যাথাসহ অন্যান্য অনেক উপসর্গ আছে। মিন্নি খেতে পারে না, ঘুমাতে পারে না। সবসময় অসুস্থ থাকে। তাই খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। কারাগারের পানি পর্যন্ত ওর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয় না। মিন্নির চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ আবেদন অনুমোদিত হলে মিন্নিকে বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারনে মিন্নিকে চেনা এখন দুষ্কর ব্যাপার। মিন্নি কোনদিন কোন অভাব দেখেনি। ওর খাওয়ার অভাব ছিল না, পরার অভাব ছিল না, কোনো শূন্যতাও ছিল না। মিন্নিকে আমি কলেজে নিয়ে যেতাম আবার কলেজ থেকে নিয়ে আসতাম। কেউ বলতে পারবে না- কোনোদিন মিন্নি একা বাহিরে বের হয়েছে। মিন্নি আজ মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন থেকে দূরে। ওকে (মিন্নিকে) কারাগারের সেলে আবদ্ধ থাকতে হয়। তাই খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে মিন্নি।

রিফাত হত্যা মামলার রায়ের পর গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মিন্নিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার পাঠানো হয়। এরপর থেকে এ কারাগারেই রয়েছেন তিনি। করোনার কারণে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে একবার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান মিন্নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102