শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬২

বাংলার সংবাদ ডেস্ক ।।
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ জন। এছাড়া আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পশ্চিম জাভার গভর্নর রিদওয়ান কামিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সিয়ানজুর শহর। মার্কিন ভূ–তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর অঞ্চল বলে নিশ্চিত করেছে।

রাজধানী জাকার্তায়ও এই ভূ–কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূ–কম্পন শুরুর পর নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ভবনের বাইরে নেমে আসেন।

ভূমিকম্পে সিয়ানজুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিয়ানজুর প্রশাসনের প্রধান হেরমান সুহেরমান স্থানীয় কমপাস টিভিকে বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে হতাহত ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আঘাত পেয়েছেন।

ভূমিকম্পে সিয়ানজুর বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। হেরমান সুহেরমান বলেন, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে কুজেনাং এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিয়ানজুর শহরের স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র আদম এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। টেলিভিশনগুলোর খবরে দেখা যায়, সিয়ানজুরে কয়েকটি ভবন একেবারে ধসে পড়েছে এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সড়কে পড়ে আছে। সুহেরমান বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা শহরের সায়াং হাসপাতালে ভিড় করছেন। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। কারণ, শহরের বাইরে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই এখনো ধসে পড়া বাড়িঘরে আটকে থাকতে পারেন।

সুহেরমান আরও বলেন, এই হাসপাতালে আমরা এখন গুরুতর আহত লোকজনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রামগুলো থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসছে। গ্রামগুলোতে এখনো বহু পরিবার রয়ে গেছে, যাঁদের উদ্ধার করা যায়নি।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) বলেছে, ভূমিকম্পে ২ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি ধসে পড়ায় ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পের কারণে ১৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে গভর্নর রিদওয়ান বলেছেন, এসব মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত প্রত্যক্ষ করে। ২০০৪ সালে সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও এরপরের সুনামিতে এই অঞ্চলজুড়ে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় মারা যায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর সুলাওসি দ্বীপে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে চার হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2017 notun-bdsangbad
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102